সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাণপুরুষ ছিলেন তোফায়েল আহমেদ
সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাণপুরুষ ছিলেন তোফায়েল আহমেদ
১৯৯১ সালে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লাভের পর সংসদের অভ্যন্তরে আলোচনার বিশেষ অংশ পরবর্তী দিন দৈনিক কাগজের পত্রিকায় প্রকাশিত হতো। ১৯৯৬ সালে সরকার আসার পর সংসদের আলোচনা বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করতো। সংসদীয় স্থায়ী  কমিটিগুলোর নিয়মিত বৈঠকের বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হতো। তখন সংসদ কার্যক্রম খবরের কাগজে বা বেতারে প্রত্যহ ফলো করা একরকম নেশা হয়ে গিয়েছিল। এরপর ২০১১  সালের শুরুতে সংসদ টিভি চালু হলে সরাসরি সংসদের কার্যক্রম দেশবাসী প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পায়। এই সকল আলোচনা শোনা বা দেখার জন্য কয়েকজন সংসদ সদস্য ছিলেন মূল আকর্ষণ। এই সময়কালে সংসদে কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী প্রাণবন্ত আলোচনায় কয়েকজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানকে বিশেষ ভূমিকা রাখতে দেখতাম। তোফায়েল আহমেদ ছিলেন এদের মধ্যে অন্যতম। তোফায়েল আহমেদ এমন একজন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পার্লামেন্টারিয়ান ছিলেন যিনি যেকোনো বিষয়ে তাৎক্ষণিক সাবলীল ভাষায় আলোচনা করতে পারতেন।  সংসদে তাঁর কথা বলার ধরণ, শ্রুতিমধুর বাক্যপ্রয়োগ, শারীরিক ভাষা, পোশাক-পরিচ্ছদ তাঁকে অনবদ্যভাবে সবসময় হাজির করতো। ইতিহাসের দিনক্ষণ ধরে এমনভাবে তিনি দেশের অতীতকে উপস্থাপন করতেন যেটা অবাক করার মতো বিষয় ছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক কর্মময় জীবন অজানা কাহিনী ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন অনন্য।   সুদীর্ঘ সময়কালের তারকা রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদের দেয়া উপাধি 'বঙ্গবন্ধু' এমন একটি শব্দ যে বিশেষণ উচ্চারণের মাধ্যমেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মদাতাকে স্মরণ করা হয় যথাযোগ্য মর্যাদায়। বঙ্গবন্ধুর আদরের তোফায়েল গত ১লা জুন ইন্তেকাল করেন। ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। দীর্ঘ ৮২ বছরের জীবনে তিনি ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক যুগের অবসানের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ছিলেন স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ও সক্রিয় অংশগ্রহণকারী। আমরা প্রত্যক্ষ করলাম রাষ্ট্রীয় আয়োজনে জুলাই জঙ্গিদের জানাজা হয় মহান জাতীয় সংসদ ভবনের সম্মুখে। সরকারি গণভবনের লুটাপাটকারীকে শ্রদ্ধা জানানো হয় শহীদ মিনারে। অন্যদিকে রাজনীতির কিংবদন্তি তোফায়েল আহমেদ এর মত মানুষের এসকল জায়গায় অনুমতি দেয়নি সরকার। তোফায়েল আহমেদের মতো জাতিরাষ্ট্র নিয়ে ইতিহাস বিনির্মাণ করা যোগ্যতাসম্পন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্ব অন্য দলগুলোতে অনুপস্থিত। এজন্য হীনমন্যতায় ভুগছেন অধিকাংশই। ভোলায় স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় অফিসে সভা করে জানাজা প্রতিহত করার প্রচেষ্টা করা হয়।  যদিও সে প্ৰচেষ্টা সফল হয়নি।  লাখো মানুষ শামিল হয়েছিল জানাযায়। এর আগে ইউনুস সরকার আমলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য প্রবীণ রাজনীতিক বেগম মতিয়া চৌধুরী মারা গেলে তাঁকে কবরের জায়গা পর্যন্ত দেয়া হয়নি।  জাতি এহেন জঘন্য আচরণ নীরবে প্রত্যক্ষ করে।   ষাটের দশকের উত্তাল ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে তোফায়েল আহমেদের রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয়। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর ভিপি ছিলেন এবং উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা রাখেন।  ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি আওয়ামী লীগের অন্যতম তরুণ নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর হিসেবে তিনি পরিচিতি লাভ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর সরকারের অন্যতম সংগঠক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। তিনি মুজিব বাহিনীর চার আঞ্চলিক প্রধানের একজন ছিলেন।  ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৭২ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে মন্ত্রীর মর্যাদায় নিয়োগপ্রাপ্ত হন। ১৯৯৬ সালের সরকারে তিনি  শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের সরকারে পুনরায় ৫ বছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশ  আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ছিলেন। সর্বশেষ দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন। তিনি মোট নয়বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড।  বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সাবলীল বক্তব্যর মাধ্যমে তিনি যেভাবে উপস্থাপন করতেন সেটা জাতির অন্তরে চিরকাল গেঁথে থাকবে। তোফায়েল আহমেদের মতো একাধারে দক্ষ আইন প্রণেতা, সফল মন্ত্রী ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিত্ববান রাজনীতিক এই দেশের ইতিহাসে বিরল। তোফায়েল আহমেদ ছিলেন সেই রাজনৈতিক প্রজন্মের প্রতিনিধি, যারা পাকিস্তান আমলের আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্রগঠন, সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পরিণত হয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তোফায়েল আহমেদের নাম দীর্ঘদিন শ্রদ্ধাভরে আলোচিত হবে।   লেখক: ফেলো-পলিসি এক্সপ্লোর, ম্যানচেস্টার, যুক্তরাজ্য।  
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য বিলি কেলেহারের সঙ্গে বৈঠকে ডা. হাবিবে মিল্লাত ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ
আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সহযোগিতা চাইলেন ডা. হাবিবে মিল্লাত

আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান, আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডা. হাবিবে মিল্লাতের সাক্ষাৎ

আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিরোধী আইনজীবীদের দমন-পীড়নের অভিযোগ: গণতন্ত্র ও বিচারব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত

শিশু হত্যা ও বলাৎকার: রাষ্ট্রের ব্যর্থতা নাকি সমাজের পতন?
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ জিসিডিজি'র
আদালত প্রাঙ্গণে আনিস আলমগীরের মন্তব্য: ‘ইউনূস বাংলাদেশকে বিক্রি করে গেছেন’
১ কোটি টাকা দিলে মামলা থেকে নাম তুলে দেওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন সাকিব
বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদীদের অতিসক্রিয়তা উদ্বেগজনক
প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাস ভাড়া বাড়াল সরকার
সংরক্ষিত নারী আসন / মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল
হজ ফ্লাইট শুরু, এ বছর যাচ্ছেন ৭৮,৫০০ বাংলাদেশি
  • ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১১ পিএম
    এমপিদের জন্য গাড়ি বরাদ্দ চাইলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তার এই দাবি সমর্থন করেন কী?

    এমপিদের জন্য গাড়ি বরাদ্দ চাইলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তার এই দাবি সমর্থন করেন কী?

    • হ্যাঁ
    • না
    • মন্তব্য নেই
    +
    =
    সাবমিট
    মোট ভোটদাতাঃ ১৩৯ জন
    মোট ভোটারঃ ১৩৯
    ভোট দিন
    Link Copied
অনলাইন জরিপ
দুদকের মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের স্থায়ী জামিন
বিশ্বকাপ দলে চমক রেখে স্কোয়াড ঘোষণা করল আর্জেন্টিনা
টয়লেট থেকে গলাকাটা যুবক উদ্ধার, মারা গেল হাসপাতালে
  • সর্বশেষ
  • দিনের সেরা
  • সপ্তাহের সেরা
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ জিসিডিজি'র
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ জিসিডিজি'র
গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্ন্যান্স (জিসিডিজি) জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি, জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট (GSOMIA) এবং অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট (ACSA) স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে অথবা এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। এক বিবৃতিতে জিসিডিজি বলেছে, জনগণের সঙ্গে পরামর্শ, সংসদীয় পর্যালোচনা কিংবা জাতীয় ঐকমত্য ছাড়াই এ ধরনের চুক্তি চূড়ান্ত করা হলে তা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতি “সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়” নীতির বিপজ্জনক বিচ্যুতি হিসেবে বিবেচিত হবে। সংগঠনটির দাবি, GSOMIA ও ACSA কেবল কারিগরি বা প্রশাসনিক চুক্তি নয়; বরং এগুলোর সুদূরপ্রসারী ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব রয়েছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে একটি বৈশ্বিক শক্তির সামরিক ও কৌশলগত বলয়ের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে, যা দেশের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা দুর্বল করতে পারে এবং প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ে সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করতে পারে। বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ACSA বিদেশি সামরিক অভিযানে লজিস্টিক সহায়তা ও প্রবেশাধিকারের সুযোগ বাড়াতে পারে। অন্যদিকে GSOMIA গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সামরিক সমন্বয় আরও গভীর করতে ভূমিকা রাখতে পারে। জিসিডিজি আরও বলেছে, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে এসেছে। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার এই নীতির বাইরে গিয়ে বিদেশি চাপের মুখে সামরিক চুক্তিতে জড়ানো দক্ষিণ এশিয়া ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে বাংলাদেশকে জড়িয়ে ফেলতে পারে। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, এসব চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য ও কূটনৈতিক আলোচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে কৌশলগত ও সামরিক ছাড় দেওয়া হলে তা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী ও অগ্রহণযোগ্য হবে বলেও মন্তব্য করা হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যখন দেশের জনগণ গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা, অর্থনৈতিক স্বস্তি এবং অবাধ রাজনৈতিক অংশগ্রহণ দাবি করছে, তখন সরকারের নৈতিক ও রাজনৈতিক বৈধতা নেই গোপনে এমন দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা চুক্তি করার, যা দেশের কৌশলগত অবস্থানকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করতে পারে। এছাড়া, এসব পদক্ষেপ বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের রাজনৈতিক দুর্বলতা ও ক্রমবর্ধমান অজনপ্রিয়তার প্রতিফলন বলেও দাবি করেছে জিসিডিজি। সংগঠনটির ভাষ্য, বিদেশি সমর্থন ও রাজনৈতিক বৈধতা অর্জনের লক্ষ্যে সরকার বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপস করতে প্রস্তুত বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। জিসিডিজি সরকারের প্রতি চার দফা আহ্বান জানিয়েছে। সেগুলো হলো: ১. GSOMIA ও ACSA সংক্রান্ত যেকোনো আলোচনা, অগ্রগতি ও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা;  ২. সংসদীয় বিতর্ক ও জনসম্মুখে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করে কোনো সামরিক বা কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর না করা;  ৩. বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি রক্ষা করা;  ৪. বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিদেশি সামরিক প্রতিযোগিতার প্ল্যাটফর্মে পরিণত হতে না দেওয়া।  জিসিডিজি আরও বলেছে, জনগণের সার্বভৌমত্ব, গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা এবং বিদেশি প্রভাবমুক্ত স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি রক্ষার সংগ্রামে তারা জনগণের পাশে থাকবে।
ইসলামাবাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব দেশের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক
ইসলামাবাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব দেশের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক
অন্তবর্তী সরকারের পথেই বর্তমান সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপনে মরিয়া। কিন্তু একাত্তরের পরাজিত শক্তির সঙ্গে প্রতিরক্ষা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বন্ধুত্বে বাড়তি উৎসাহ দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক বলে মনে করছেন অনেকেই। মনে রাখতে হবে একাত্তরের গণহত্যার জন্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়নি ইসলামাবাদ। বরং বিভিন্ন আলোচনায় উঠে এসেছে, পাকিস্তানি সেনা এখনও একাত্তরের বদলা নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে। বাংলাদেশের মাটিতে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে নিজেদের পরাজয় তারা মেনে নিতে পারছে না। তাই পাকিস্তানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা পাকিস্তানি বায়ু সেনার শীর্ষকর্তাদের ঢাকা সফর নিয়ে অনেকেই আতঙ্কিত।   পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি হঠাৎ করেই বাংলাদেশ সফর করেন। ঢাকায় পাকিস্তানি দূতাবাসের জরুরি বার্তা পেয়ে পাকিস্তানি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম ও ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন। ঢাকা সফররত পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথমে সাক্ষাত করেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। পরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও সাক্ষাৎ করেন নাকভির সঙ্গে। শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎই নয়, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। সমঝোতা স্মারকের মূল বিষয় হচ্ছে মাদক চোরাচালান ও মানবপাচার রোধ এবং সীমান্ত সুরক্ষা। অথচ দুই দেশের মধ্যে কোনও ভৌগলিক সীমান্ত নেই। এমনকি, মাদক বা মানব পাচার নিয়েও  দুই দেশের মধ্যে কোন সমস্যা নেই। কূটনৈতিক মহলের অনুমান, উভয় দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোপন কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। ক্রিকেটকে উপলক্ষ্য করে নাকভির এই ঢাকা সফর বেশ রহস্যজনক। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সফরকালে নাকভি নিজের পাকিস্তানি সশস্ত্র দেহরক্ষীদের নিরাপত্তা বলয়ে ছিলেন। বাংলাদেশি নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর ভরসা রাখতে পারেননি তিনি। এটা একটি স্বাধীন দেশের পক্ষে যথেষ্ট অপমানজনক।   পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভির এই ঢাকা সফর শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আফগানিস্তান সীমান্তের নাস্তানাবুদ ইসলমাবাদ দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে আর্থিক দিক থেকে অতি দুর্বল পাকিস্তান বাংলাদেশের কাঁধে ভর দিয়ে চীনের কাছ থেকে আরও সুবিধা আদায় করতে চায়। সেই লক্ষ্যেই শিগগিরই ঢাকা সফরে আসতে পারেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সৌদি আরবের জেদ্দায় ফিলিস্তিনবিষয়ক ওআইসি নির্বাহী কমিটির বৈঠকের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এমনটিই জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার। শোনা যাচ্ছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানও ইসলামাবাদ সফরে যেতে পারেন। পাকিস্তান এখন বাংলাদেশে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে। জামায়াতে ইসলামীর হাতের পুতুল অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকেই চলছে ইসলামাবাদের গভীর ষড়যন্ত্র। বর্তমান সরকারের আমলেও সেই ষড়যন্ত্রে লাগাম টানার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিএনপি দলটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করলেও পাকিস্তানি ফাঁদে তারা পা দিতে চলেছে বলে অনেকের আশঙ্কা। সেই আশঙ্কাকে সত্য প্রমাণ করতেই ১১ মে পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসে।  পাকিস্তানের মাটিতে ভারতীয় বায়ু সেনার জঙ্গি বিরোধী অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বর্ষপূর্তি ১১ মে। সেদিনই তাদের ঢাকা সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এই প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্বে ছিলেন ইসলামাবাদ বায়ুসেনার স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ এয়ার ভাইস মার্শাল ঔরঙ্গজ়েব অহমেদ। জানা গিয়েছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পাইলট এবং কারিগরি কর্মকর্তাদের (টেকনিক্যাল স্টাফ) পাকিস্তানে পাঠাবে সরকার। সেখানে অত্যাধুনিক লড়াকু জেট ওড়ানো, মাঝ-আকাশের কসরত ও লড়াই এবং সামরিক বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের প্রশিক্ষণ নেবেন তারা। পাকিস্তানের সঙ্গে এধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া কতোটা যুক্তিসঙ্গত তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন দেশের সামরিক বিশেষজ্ঞরা। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তায় ঝুঁকি নেওয়া শুরু হয়েছিল  ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনামল থেকে। তার সময়ে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাইয়ে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিঁধুর সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন বাংলাদেশ বায়ুসেনার প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। সেখানেই ঠিক হয় পাকিস্তান বায়ুসেনার কাছ থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি নেবে। এমনকি, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ যুদ্ধবিমান কেনারও পরিকল্পান করে। এই যুদ্ধবিমানটির মূল নকশা তৈরি করেছে চীন। হালকা ওজনের যুদ্ধবিমানটি বেজিঙের ‘চেংডু এয়ারক্রাফ্‌ট কর্পোরেশন’ বা সিএসি তৈরি করে। তবে চীনা প্রযুক্তিতে বর্তমানে ইসলামাবাদও এই যুদ্ধ বিমান তৈরি করছে। ‘পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেস’ (পিএসি) বর্তমানে এই যুদ্ধজাহাজের ৫৮ শতাংশ এবং চীন বাকি ৪২ শতাংশ তৈরি করছে।  কিন্তু বিমানটির কারিগরি দক্ষতা মোটেই সন্তোষজনক নয়। প্রতিবেশী ভারত যেখানে ফ্রান্স থেকে রাফালের মতো যুদ্ধ বিমান কিনছে সেখানে চীনা প্রযুক্তিতে পাকিস্তানি এই যুদ্ধ বিমান দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কতোটা মজবুত করতে সেটা যথেষ্টই প্রশ্নবোধক। তাছাড়া পাকিস্তানি বায়ুসেনা মোটেই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিজ্ঞানে পারদর্শী নয়। তাদের প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পক্ষে কতোটা লাভজনক হবে তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, পাকিস্তানের সঙ্গে দেশের প্রতিরক্ষা নিয়ে সমঝোতায় অবশ্যই ঝুঁকি রয়েছে। এখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশের প্রশাসনিক কর্তাদেরও প্রশিক্ষণের জন্য লাহোরে পাঠানো হচ্ছে।    অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকেই ইসলামাবাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়ছে। নতুন করে শুরু হয়েছে উভয় দেশের মধ্যে যাতায়াত। বিমান চলছে দুই দেশের মধ্যে। কিন্তু সাধারণ মানুষের বদলে জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতী ইসলামী, হিজবুত তাহরীরসহ আরো একাধিক মৌলবাদী সংগঠনের নেতাদের পাকিস্তান সফর বেড়ে গিয়েছে। তারা গিয়ে সে দেশের মৌলবাদীদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন।  আর  পাকিস্তান থেকে উড়ে এসে লস্করই তৈয়বা, জইস্ই মহম্মদ, তেহরিক-ই-তালেবানের নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়, মাদ্রাসা ও মসজিদে সভা সমাবেশ করে মৌলবাদের প্রসার ঘটাচ্ছেন। গত ১৭ মে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ-পাকিস্তান শিক্ষা মেলা। এর আগে  অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে, গত বছরের ৩০ নভেম্বর প্রথমবার বাংলাদেশ-পাকিস্তান শিক্ষা মেলা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা মেলায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেছেন, ‘এই উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান, দক্ষতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গেও আমার আলোচনা হয়েছে এবং তিনি উদ্যোগটির প্রশংসা করেছেন। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।’ শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের সার্বিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে আগ্রহী। আমরা বিশ্বাস করি, গবেষণা, উদ্ভাবন ও একাডেমিক কার্যক্রমে বৈশ্বিক সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদেরও মন জয় করার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। সঙ্গে চলছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকেও বিকৃত করার চেষ্টাও। শুরু হয়েছে শিক্ষা-বিনিময়ের নামে শিক্ষার্থীদের মগজধোলাই।  ইতিহাসকে অবজ্ঞা করে পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অবজ্ঞা করে তারা দেশের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপোষ করেছিল। তাদের গৃহীত পথেই বর্তমান সরকারও ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নের নামে বাড়তি উৎসাহ দেখানোয় অনেকেই মনে করছেন দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। বিঘ্নিত হতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীল শান্তিরও। কারণ পাকিস্তানকে কিছুতেই বিশ্বাস করা যায় না। তাদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সমঝোতার করার অর্থই হচ্ছে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে আপোষ।

শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো দীপু মনি, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আদালত আগামী ৭ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন। ওই দিন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার কথা রয়েছে। এর আগে গত ৭ মে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই তিনজনকে মামলায় হাজির করার আবেদন করা হয়। ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করলে বৃহস্পতিবার তাঁদের আদালতে হাজির করা হয় এবং পরে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেওয়া হয়। এই মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, হাসান মাহমুদ খন্দকার, বেনজীর আহমেদ, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার এবং পুলিশের সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০১৩ সালের মে মাসে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত ঘটনায় এখন পর্যন্ত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে ৫৮ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, নিহতদের পরিচয় ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে।

দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে পুলিশকে আর ব্যবহার করা যাবে না: তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী শক্তি পুলিশ বাহিনীকে দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার প্রথম প্রহরে রাজারবাগে পুলিশের আত্মত্যাগের স্মৃতি সামনে রেখে নতুন অঙ্গীকারে এগিয়ে যেতে হবে। রোববার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, একদিকে চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার বিদ্রোহের ঘোষণা এবং অন্যদিকে রাজারবাগে পুলিশের প্রতিরোধ স্বাধীনতার সংগ্রামকে আরও বেগবান করেছিল। সেই সময়ের ঘটনাগুলো দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আরও শক্তিশালী করে তোলে। মুক্তিযুদ্ধকালীন ইতিহাস নিয়ে এখনও নানা প্রশ্ন ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, ১৯৭১ সালের উত্তাল পরিস্থিতিতে সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে একত্রিত রাখার পেছনে তৎকালীন নেতৃত্বের কী কৌশল ছিল, তা গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তাদের শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্ব দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্যারেড অনুষ্ঠানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দেশের মানুষ এখন শান্তি ও নিরাপত্তা প্রত্যাশা করে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীর দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম। পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। নারী পুলিশ সদস্যদের অবদানও বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে বলে তিনি জানান। দেশের জনগণের সঙ্গে মানবিক আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, মানুষের আস্থা অর্জনও পুলিশের বড় দায়িত্ব।

ঢাকায় পরীক্ষামূলক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত

কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা, লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং গ্রাম-শহরের বিদ্যুৎ বৈষম্য কমাতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে অতীতের অব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি ঘাটতি বড় কারণ। বর্তমানে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং থাকলেও আগামী সাত দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে লোডশেডিংজনিত ভোগান্তির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখও প্রকাশ করেন। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে কিছু এলাকায় লোডশেডিং এড়ানো যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে এবং বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনা করে ঢাকায় সীমিত আকারে লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, শহরের মানুষ স্বস্তিতে থাকবে আর গ্রামাঞ্চলের কৃষক কষ্টে থাকবে—এটি গ্রহণযোগ্য নয়। বৈষম্য কমাতে শহরেও প্রয়োজন অনুযায়ী লোডশেডিং করা হচ্ছে, যাতে কৃষকেরা সেচের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পান। তিনি আরও বলেন, তীব্র গরমে বিদ্যুৎ সমস্যায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তবে এটি দীর্ঘদিনের সঞ্চিত সংকট, যার দায় বর্তমান সরকারের নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও বাস্তবে ঘাটতি থাকার বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, বুধবার দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট, বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ দশমিক ৩৫ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট ঘাটতি পূরণে লোডশেডিং করতে হয়েছে। গ্যাস সংকটকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে ১ হাজার ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি হচ্ছে গড়ে ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয়। তবে সরকারের অগ্রাধিকার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ চলছে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, রক্ষণাবেক্ষণের কারণে দুটি আমদানিনির্ভর এবং একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। তবে সেগুলো দ্রুত উৎপাদনে ফিরলে লোডশেডিং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য বিলি কেলেহারের সঙ্গে বৈঠকে ডা. হাবিবে মিল্লাত ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ
আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সহযোগিতা চাইলেন ডা. হাবিবে মিল্লাত
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দেশে সুষ্ঠু রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য (এমইপি) বিলি কেলেহারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও নেতারা। সোমবার (৮ জুন) আয়ারল্যান্ডের কর্কে অবস্থিত ক্লেটন হোটেল সিলভার স্প্রিংসের লবিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও আয়ারল্যান্ডের সাবেক মন্ত্রী বিলি কেলেহার, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত, আয়ারল্যান্ড ছাত্রলীগের সভাপতি নোমান চৌধুরী, আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগের নেতা রফিক খান এবং রিপাবলিকান পার্টি অব আয়ারল্যান্ডের কর্ক সাউথ সেন্ট্রাল শাখার স্টুডেন্ট উইংয়ের চেয়ারম্যান রাদিন খান। বৈঠকে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় গ্রেপ্তার দলটির মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও নেতাকর্মীদের জামিনের বিষয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সহযোগিতা কামনা করা হয়। এসময় ডা. হাবিবে মিল্লাত বাংলাদেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশ হত্যা, মব সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, জঙ্গিবাদের উত্থান এবং বিচারহীনতার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তিনি গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্ন্যান্স (জিসিডিজি) প্রণীত গবেষণা প্রতিবেদনগুলো বিলি কেলেহারের কাছে হস্তান্তর করেন। বৈঠকে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করা হয়। জবাবে বিলি কেলেহার বিষয়গুলো ইউরোপীয় পার্লামেন্টে উত্থাপন এবং আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান, আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডা. হাবিবে মিল্লাতের সাক্ষাৎ
আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান, আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডা. হাবিবে মিল্লাতের সাক্ষাৎ
বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেফতার বন্ধ এবং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কামনা করে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের (Micheál Martin) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত। রোববার (৭ জুন) আয়ারল্যান্ডের কর্ক সিটি কাউন্সিলে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎকালে ডা. হাবিবে মিল্লাত বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সহযোগিতার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একই সঙ্গে দেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন। সাক্ষাৎকালে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন (Micheál Martin) বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হয়ে উদ্বেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি পরিস্থিতির ইতিবাচক উত্তরণে গঠনমূলক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় আয়ারল্যান্ড ছাত্রলীগের সভাপতি নোমান চৌধুরী এবং আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগের নেতা রফিক খান উপস্থিত ছিলেন। সফরকালে ডা. হাবিবে মিল্লাত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কমিশনার ও সদস্য বিলি কালাহার (Billy Kelleher), ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য সিনথিয়া নি মুরখু (Cynthia Ní Mhurchú), আয়ারল্যান্ডের সংসদ সদস্য শেন ময়নিহান (Shane Moynihan) এবং কর্ক কাউন্টি কাউন্সিলের লর্ড মেয়র ফারগাল ডেনেহির (Fergal Dennehy) সঙ্গেও পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎগুলোতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক চর্চা, রাজনৈতিক অধিকার এবং বিরোধী মত দমন ও রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর চলমান চাপের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা এবং সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
১ কোটি টাকা দিলে মামলা থেকে নাম তুলে দেওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন সাকিব
১ কোটি টাকা দিলে মামলা থেকে নাম তুলে দেওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন সাকিব
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর একটি থেকে নাম সরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তাঁকে এক কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি স্পষ্টভাবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। সম্প্রতি দৈনিক প্রথম আলো’র এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, এফআইআরে বাদীপক্ষের সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তাঁর কাছে এই প্রস্তাব পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, “বলেছে যে এক কোটি টাকা দিলে আমার নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে। কিন্তু যারা এই কথা বলেছে, তারা বুঝতে পারেনি যে মামলা হয়ে যাওয়ার পর চাইলেই নাম তুলে দেওয়া যায় না। শেষ পর্যন্ত পুলিশের তদন্তেই বিষয়টি নির্ধারিত হবে।” সাকিব আরও বলেন, টাকা দেওয়া মানে নিজের দোষ স্বীকার করার মতো বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। তাই তিনি এ ধরনের প্রস্তাবে সাড়া দেননি। বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থানরত সাকিব জানান, দেশে ফিরতে তাঁর মূল সমস্যা গ্রেপ্তার নয়; বরং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। তিনি বলেন, “আমি চাই অন্তত একটি স্বাভাবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক। মব বা সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা তো থাকতেই পারে।” তিনি জানান, আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তিনি বিষয়গুলোর সমাধান চাচ্ছেন এবং একটি মামলার বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি হতে পারে বলেও আশা করছেন। জাতীয় দলের বাইরে থাকা প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা অবশ্যই বিশেষ কিছু এবং সেটি তিনি মিস করেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর আফসোস নেই। “কয়েকবার সাসপেন্ড হয়ে অভ্যাস হয়ে গেছে,” হাসতে হাসতে বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, জাতীয় দলের সুযোগ-সুবিধা ও অনুশীলনের পরিবেশের বিকল্প নেই। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করায় নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। এজন্য কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলতে হলে তিনি আগেভাগে গিয়ে প্রস্তুতি নেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট ও এনডোর্সমেন্ট নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তিনি সময়ের আগেই অনেক কিছু করেছেন। তাঁর ভাষায়, “আমি যখন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলতে যেতাম, তখন আমাকে দেশদ্রোহী বলা হতো। এখন এগুলো অনেক স্বাভাবিক হয়ে গেছে।” তিনি মনে করেন, তাঁর সময়ের সমালোচনাগুলো পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য পথ সহজ করেছে। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই বলেও জানিয়েছেন সাকিব। তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি একটি নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর মতে, রাজনীতি মানুষের সেবার জায়গা হওয়া উচিত, যদিও দেশের মানুষ রাজনীতিকে নেতিবাচকভাবে দেখে। তিনি বলেন, “ভালো মানুষ যেন ভালো থাকে এবং খারাপ কাজের বিচার হয় এটাই সবাই চায়।” সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলাকে তিনি বাংলাদেশের জন্য ক্ষতির কারণ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, বিশ্বকাপ না খেলায় বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রমাণের একটি বড় সুযোগ হারিয়েছেন। সাকিবের ভাষায়, “বিশ্বকাপই আসল পরীক্ষা। সেই পরীক্ষার সুযোগটা আমরা হারিয়েছি।” আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার বিষয়ে আশাবাদী সাকিব জানান, সুযোগ পেলে তিনি আবারও নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবেন। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে এখনো নিজের অবদান রাখার সামর্থ্য আছে বলে মনে করেন তিনি। ২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি এই অলরাউন্ডার।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে শেষ বিদায়, জানাজায় মানুষের ঢল
“জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান / ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে শেষ বিদায়, জানাজায় মানুষের ঢল
চট্টগ্রামে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে বর্ষীয়ান রাজনীতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন–এর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে তাকে শেষ বিদায় জানান নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। জানাজায় অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, প্রয়াতের বড় ছেলে সাবেদুর রহমান সমুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষ। এর আগে মরদেহ জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে পৌঁছালে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় কফিন। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, সিপিবিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা সেখানে শ্রদ্ধা জানান। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, মোশাররফ হোসেনের রাজনৈতিক জীবন ছিল বর্ণাঢ্য এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে তার অবদান মানুষ দীর্ঘদিন স্মরণ করবে। উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পাকিস্তান আমল থেকেই মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে তার রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। প্রয়াত নেতার ছেলে সাবেদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার বাবা মারা যান। তিনি সবার কাছে তার বাবার জন্য দোয়া কামনা করেন। জানাজা শেষে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স মীরসরাইয়ের ধুম গ্রামের উদ্দেশে রওনা হলে নেতাকর্মীরা ‘বীর চট্টলার মোশাররফ ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’ এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। পরে বাদ আসর ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে। ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। ছাত্রজীবনে লাহোরে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় তিনি ছয় দফা আন্দোলনে যুক্ত হন এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মহান মুক্তিযুদ্ধে ১ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রামের মীরসরাই আসন থেকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন আমৃত্যু। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হন এবং ২০১৪-২০১৯ মেয়াদেও একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ২০২৫ সালের আগস্টে জামিনে মুক্তি পান। মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার ছেলে মাহবুব রহমান রুহেল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
স্কুল ফিডিংয়ে পচা ডিম বিতরণের অভিযোগে তদন্ত কমিটি
স্কুল ফিডিংয়ে পচা ডিম বিতরণের অভিযোগে তদন্ত কমিটি
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের মাঝে পচা ডিম ও নিম্নমানের কলা বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ৪ মে একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে পচা ডিম বিতরণের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রশাসনের নজরে আসে বিষয়টি। একই দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত নোটিশে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, কিশোরগঞ্জ উপজেলার স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহের অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা উদ্বেগজনক। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে মতামতসহ প্রতিবেদন সাত কর্মদিবসের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টয়লেট থেকে গলাকাটা যুবক উদ্ধার, মারা গেল হাসপাতালে
টয়লেট থেকে গলাকাটা যুবক উদ্ধার, মারা গেল হাসপাতালে
বান্দরবানে ছয় শ্রমিককে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি
বান্দরবানে ছয় শ্রমিককে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি
জাইমা রহমানকে নিয়ে পোস্ট করায় যুবক গ্রেপ্তার
জাইমা রহমানকে নিয়ে পোস্ট করায় যুবক গ্রেপ্তার
হামে শিশুর মৃত্যু, যে ভাইরাল ছবি কাঁদিয়েছে সবাইকে
হামে শিশুর মৃত্যু, যে ভাইরাল ছবি কাঁদিয়েছে সবাইকে
বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণে জমি দেবে পশ্চিমবঙ্গ
বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণে জমি দেবে পশ্চিমবঙ্গ
এবার বরখাস্ত হলেন মার্কিন নৌবাহিনীর সেক্রেটারি
এবার বরখাস্ত হলেন মার্কিন নৌবাহিনীর সেক্রেটারি
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ কাঠামো চুক্তি কার্যকর: দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ কাঠামো চুক্তি কার্যকর / দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন
২০২৬ সালের ৫-৭ মে, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের একটি প্রতিনিধিদল ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (Agreement on Reciprocal Trade) বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় এসে পৌঁছায়। এই চুক্তিটি বস্ত্রের ওপর ১৯ শতাংশ হ্রাসকৃত শুল্ক এবং নির্বাচিত কিছু পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত অবস্থার বিনিময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামোতে প্রবেশাধিকার দেয় এবং আমেরিকান বিগ টেক কোম্পানি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও জ্বালানি সরবরাহকারীদের জন্য বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার উন্মুক্ত করে। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লেখা এক ব্যক্তিগত চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাংলাদেশের বাণিজ্য সুবিধা অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়টিকে দুটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। ওয়াশিংটন ২০১৯ সাল থেকে ঢাকার সঙ্গে এই চুক্তিগুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছে এবং পক্ষগুলো এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রথমটি, সামরিক তথ্যের সাধারণ নিরাপত্তা চুক্তি (General Security of Military Information Agreement), দুই সামরিক বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের সুযোগ দেবে এবং Kyaukpyu-এর চারপাশের পরিস্থিতির ওপর নজরদারি আরও জোরদার করবে। দ্বিতীয়টি - অধিগ্রহণ ও পারস্পরিক পরিষেবা চুক্তি (Acquisition and Cross Servicing Agreement) - পুনঃসরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মার্কিন জাহাজ ও বিমানের জন্য বাংলাদেশের বন্দর ও বিমানক্ষেত্রগুলো উন্মুক্ত করে দেবে। ২০২৬ সালের ১৩-১৫ মে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বৈঠকের প্রাক্কালে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও সামরিক সহযোগিতা জোরদার করার মাধ্যমে ওয়াশিংটন বেইজিংকে এই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে মালাক্কা প্রণালীকে স্থলপথে এড়িয়ে যাওয়ার চীনা কৌশলটি এখন মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। মালাক্কা প্রণালীর স্থলপথের বিকল্প পথ বেইজিংয়ের জন্য কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের একটি বিষয়। চীনের তেল আমদানির প্রায় ৮০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়েই হয়, এবং তাইওয়ানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে মার্কিন নৌবাহিনী ও তার মিত্ররা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই পথটি বন্ধ করে দিতে পারে। মিয়ানমার ও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে যাওয়া স্থল করিডোরগুলো মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকে তেল সরবরাহের পথ ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ কিলোমিটার কমিয়ে দেয় এবং প্রশান্ত মহাসাগরে সম্ভাব্য সংঘর্ষের সময় দীর্ঘস্থায়ী সামুদ্রিক অবরোধের মুখেও চীনের অর্থনীতিকে সচল রাখে। এই বিন্যাসে, বাংলাদেশ মিয়ানমারের মধ্য দিয়ে যাওয়া করিডোরটির জন্য পার্শ্ব সুরক্ষা প্রদান করে এবং বঙ্গোপসাগরে প্রবেশের জন্য বন্দর অবকাঠামো সংরক্ষণ করে। ২০১৮ সাল থেকে বেইজিং চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (China Myanmar Economic Corridor) নির্মাণ করে আসছে, যার মধ্যে Kyaukpyu  থেকে Yunnan পর্যন্ত একটি ৭৭১ কিলোমিটার তেল পাইপলাইন এবং একটি ৭৯৩ কিলোমিটার গ্যাস পাইপলাইন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সাথে, দেশটি বঙ্গোপসাগরে সংরক্ষিত প্রবেশপথ হিসেবে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ি বন্দরেও বিনিয়োগ করছে। মিয়ানমার সংঘাত নিয়ে Solid Info’র পূর্ববর্তী বিশ্লেষণে যেমনটি নথিভুক্ত করা হয়েছিল, এই গৃহযুদ্ধ China Myanmar Economic Corridor-কে আক্রমণের এক ধারাবাহিক হুমকির মুখে ফেলেছে। বাংলাদেশের ২০২৬ সালের নির্বাচনে তারেক রহমানের বিএনপির বিজয় বেইজিংকে ঢাকায় তার অনুগত রাজনীতিবিদদের থেকে বঞ্চিত করেছে। ওয়াশিংটন মিয়ানমার উপকূল থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত সেন্ট মার্টিন দ্বীপে প্রবেশাধিকার লাভ করেছে - এটি একটি সম্ভাব্য নৌঘাঁটির কেন্দ্র, যেখান থেকে Kyaukpyu-এর প্রবেশপথ এবং ভারত মহাসাগরে China Myanmar Economic Corridor-এর বহির্গমন পথগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং আটটি দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় রাষ্ট্রের সাথে বার্ষিক ক্যারাট (CARAT) মহড়ার মাধ্যমে এবং চট্টগ্রামের কাছে মার্কিন বিমানবাহিনীর সেপ্টেম্বর মাসের প্যাসিফিক অ্যাঞ্জেল ২৫-৩ অভিযানের মাধ্যমে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বিস্তার লাভ করছে। সম্মিলিতভাবে, এই কার্যক্রমগুলো মালাক্কা রুট বরাবর একটি অবিচ্ছিন্ন নিয়ন্ত্রণ বলয় তৈরি করে, যেখানে বাংলাদেশ উত্তর-পূর্ব নোঙর হিসেবে কাজ করে। মে মাসের যুক্তরাষ্ট্র-চীন শীর্ষ সম্মেলনের ফলাফল যাই হোক না কেন, বাংলাদেশ অংশের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিবর্তিত থাকবে। একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাইওয়ানে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ কমাতে সম্মত হতে পারেন, যার বিনিময়ে বেইজিং একীকরণের জন্য সামরিক পরিস্থিতি ত্যাগ করার প্রতিশ্রুতি দেবে। এমন পরিস্থিতিতেও বেইজিং তার স্থলপথের করিডোর সম্প্রসারণ বন্ধ করবে না - ২০২৬ সালের হরমুজ প্রণালী সংকট তাইওয়ান-কেন্দ্রিক পথ থেকে স্বাধীনভাবে সামুদ্রিক রসদ সরবরাহের দুর্বলতা প্রকাশ করে দিয়েছে। সংকীর্ণ প্রণালীতে যান চলাচলের ঘনত্ব পথ খোলা রাখা পক্ষকে উন্নততর অস্ত্রশক্তির মাধ্যমে হুমকি নিষ্ক্রিয় করার ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করে, এমনকি যখন প্রতিপক্ষের আঘাত হানার ক্ষমতা সীমিত থাকে। হরমুজ অবরোধ তুলে নিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার পর, বেইজিং ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে একটি বিকল্প নেটওয়ার্ক ‘স্ট্রিং অফ পার্লস’ কৌশল-এর নির্মাণকাজ ত্বরান্বিত করেছে। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (China Pakistan Economic Corridor) এবং চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (China Myanmar Economic Corridor) উভয়ই রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল অঞ্চলের মধ্য দিয়ে গেছে, এবং এদের নির্ভরযোগ্যতা নির্ভর করে অনুগত শাসনব্যবস্থার নিরাপত্তা বজায় রাখা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর পররাষ্ট্রনীতিকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে চীনের সক্ষমতার ওপর। মিয়ানমার ও বাংলাদেশ মিলে একটি একক চীনা-সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যা মালাক্কা বাইপাস রুটের ভারবাহী কাঠামো হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশের সীমান্তে রয়েছে গৃহযুদ্ধ-বিধ্বস্ত মিয়ানমার এবং এটি বেইজিংকে একই সাথে China Myanmar Economic Corridor-র জন্য পার্শ্ব সুরক্ষা ও ১৭ কোটি মানুষের একটি ভোক্তা বাজার সরবরাহ করে। মালাক্কা বাইপাস রুটে চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ি সবচেয়ে সুবিধাজনক বিকল্প সংযোগ হিসেবে কাজ করে - শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বা পাকিস্তানের গোয়াদরের মতো নয়, এই বন্দরগুলো China Myanmar Economic Corridor-র বহির্গমনের পথের কাছে অবস্থিত এবং মিয়ানমারের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল নয়। ২০২৪ সালের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর সরকার পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ অংশের কৌশলগত গুরুত্ব ওয়াশিংটনের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তারেক রহমানের বিএনপির বিজয় রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে ঢাকায় দিল্লির রাজনৈতিক প্রভাব খর্ব করে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে আমেরিকার প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত করে দেয়। অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে মার্কিন বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার ঢাকার বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহকে সচল রাখে, বেইজিংয়ের প্রস্তাব এই মাধ্যমটির বিকল্প হতে পারে না। হরমুজ উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে পারস্য উপসাগর থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তারেক রহমান’র সরকারের জন্য মার্কিন জ্বালানি সরবরাহ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ঢাকাকে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলছে না। হোয়াইট হাউস প্রতিবেশী নেপালে পরীক্ষিত মডেলটি বাংলাদেশে প্রয়োগ করছে - সম্পর্ককে প্রকাশ্য সংঘাতে না নিয়ে চীনের পরিধি বরাবর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অবস্থান সুসংহত করা, এবং একই সাথে বেইজিংকে এমন জায়গায় সুযোগ দেওয়া যেখানে তার উপস্থিতি এই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থের জন্য হুমকি নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি বাংলাদেশের নতুন সরকার বেইজিংয়ের সঙ্গেও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। গত ৬ মে,  USTR প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান তাঁর প্রথম সরকারি চীন সফরে বেইজিংয়ে ওয়াং ই-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বাংলাদেশের ওপর চীনের প্রভাব বিস্তারের আরেকটি উপায় হলো এর জনসংখ্যাগত সম্ভাবনা। ২০২৪ সালে দেশটি ভূমধ্যসাগরের কেন্দ্রীয় পথ দিয়ে ইউরোপে অবৈধ অভিবাসী পাঠানোর বৃহত্তম উৎস হয়ে ওঠে - প্রতি বছর দশ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কাজের সন্ধানে দেশ ছাড়ে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিটেন্সের পরিমাণ ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। বেইজিংয়ের জন্য বাংলাদেশ একাধারে একটি ভোক্তা বাজার এবং গণতান্ত্রিক দেশগুলোর ওপর অভিবাসন চাপের একটি আধার হিসেবে কাজ করে, যেখানে বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা স্বল্প-দক্ষ শ্রমিকের ঢল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তেজনাকে তীব্র করে তোলে। বাংলাদেশের দরিদ্র অঞ্চলগুলোতে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অধীনে চীনা বিনিয়োগ বজায় রাখা সেই প্রতিবন্ধকতাকে টিকিয়ে রাখে, যা স্বল্প-দক্ষ জনগোষ্ঠীকে বেইজিংয়ের প্রভাব বলয়ের মধ্যে আটকে রাখে। গণতান্ত্রিক মডেলে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল হলে সেই প্রতিবন্ধকতা দূর হবে।   আমেরিকান বিনিয়োগের জন্য একটি সুরক্ষিত অর্থনৈতিক পরিসর তৈরির মাধ্যম হিসেবে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ART চুক্তিটি সেই বৃহত্তর শুল্ক কৌশলেরই একটি অংশ, যা ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে মার্কিন শর্তে গ্লোবাল সাউথের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে প্রয়োগ করে আসছে। এই চুক্তিটি পূর্ববর্তী বাণিজ্য মডেলের “অন্যায্যতার” ক্ষতিপূরণ করার পাশাপাশি আমেরিকান বিগ টেক কোম্পানিগুলোর জন্য সেইসব বাজার উন্মুক্ত করে দেয়, যা এতদিন চীনা পুঁজির নিয়ন্ত্রণে ছিল। বাংলাদেশ মার্কিন বিগ টেক কোম্পানি, আইটি প্ল্যাটফর্ম, টেলিকমিউনিকেশন পরিষেবা প্রদানকারী এবং জ্বালানি সরবরাহকারীদের জন্য তার অভ্যন্তরীণ বাজার উন্মুক্ত করছে এবং একই সাথে তাদের চীনা প্রতিযোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অ্যামাজন ঢাকায় একটি কর্পোরেট অফিস খুলেছে এবং বাংলাদেশী বস্ত্র উৎপাদকদের সরাসরি মার্কিন খুচরা বাজারে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি পরিষেবা চালু করেছে, যা মধ্যস্থতাকারীদের শৃঙ্খলকে সংক্ষিপ্ত করছে এবং মার্কিন প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর এই শিল্পের নির্ভরশীলতাকে পাকাপোক্ত করছে। ২০২৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশের  ITES বাজার ২.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে এবং বাংলাদেশের দুই-তৃতীয়াংশ আইটি কোম্পানি মার্কিন গ্রাহকদের পরিষেবা দেয় - এই সংযোগটি ঢাকার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নির্বিশেষে বাংলাদেশের শিক্ষিত যুবসমাজকে মার্কিন অর্থনীতির সাথে আবদ্ধ করে। এই বিনিয়োগের ফলে যে সরবরাহ মানদণ্ড তৈরি হয়েছে, তা চীনা ও ভারতীয় মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হওয়া ধূসর আমদানির পথ বন্ধ করে দেয়, যা পূর্বে বাংলাদেশের বাজারে সরবরাহের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের জন্য দায়ী ছিল। চুক্তিটি উভয় পক্ষের মধ্যে অসম বাধ্যবাধকতা দ্বারা চিহ্নিত। নতুন সরকার নিজস্ব অগ্রাধিকার প্রণয়নের আগেই ওয়াশিংটন মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশের শর্তাবলী নির্ধারণ করে দেয়। ঢাকা মার্কিন রাসায়নিক, চিকিৎসা সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং কৃষি-খাদ্য পণ্যের জন্য অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার দিতে সম্মত হয়। আগামী ১৫ বছরে আমেরিকার পরিকল্পিত জ্বালানি ক্রয়ের পরিমাণ আনুমানিক ১৫ বিলিয়ন ডলার। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য ৩.৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার চুক্তিটি ৩০ এপ্রিল, ২০২৬-এ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিটি রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং প্রস্তুতকারকের মান অনুযায়ী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ২০ থেকে ২৫ বছরের পরিষেবা চক্রে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচলকে তার আমেরিকান সরবরাহকারীর সাথে আবদ্ধ করে। এই প্রেক্ষাপটে, আমেরিকান ছাড়গুলো বাছাইকৃতই রয়ে গেছে - শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে এবং আমেরিকান কাঁচামাল থেকে উৎপাদিত শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণীর বস্ত্রের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা চালু করা হয়েছে। শুল্কমুক্ত ব্যবস্থা বাংলাদেশের জন্য একমাত্র প্রকৃত অর্থনৈতিক সুবিধা, কিন্তু ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের শেষ পর্যন্ত এটি বাস্তবে প্রয়োগ করা হয়নি - মে মাসের আলোচনায় এর বাস্তবায়নের পদ্ধতির ওপর আলোকপাত করা হয়েছিল। বিশেষ সুবিধাগুলো কার্যকর হওয়ার পরেও ওয়াশিংটনের প্রভাব বিস্তারের একটি নির্ণায়ক ক্ষমতা থাকবে - কাঁচামালের উৎস সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ফলে শুল্ক ৩৭ শতাংশে ফিরিয়ে আনার পথ খুলে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানির ৮৬ শতাংশই (২০২৫ সালে ৯.৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৮.২ বিলিয়ন ডলার) পোশাক ও বস্ত্রশিল্প থেকে আসে এবং এই খাতটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান জোগায়, তাই শুল্ক প্রত্যাহারের যেকোনো পদক্ষেপ তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি তৈরি করবে। তারেক রহমান’র সরকার এমন একটি অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে যা দুই বছরে তার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের এক-তৃতীয়াংশ হারিয়েছে এবং এখনো ২০২৪ সালের শুরুর দিকের পর্যায়ে পুনরুদ্ধার হয়নি - ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুদ্রাস্ফীতি ৯.১৩ শতাংশে পৌঁছেছে এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ শতাংশেই অপরিবর্তিত রয়েছে। ART ঢাকাকে সফটওয়্যার, ডিজিটাল কন্টেন্ট এবং অনলাইন পরিষেবার ওপর শুল্ক আরোপ না করতে বাধ্য করে এবং আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের ডেটা শুধুমাত্র দেশের অভ্যন্তরীণ সার্ভারে সংরক্ষণ করার যেকোনো শর্ত আরোপ করা নিষিদ্ধ করে। বাংলাদেশ চীনা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং ক্লাউড সরবরাহকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষমতা হারায়। এই চুক্তিটি চীন ও রাশিয়ার সাথে নতুন বাণিজ্য চুক্তি করার অধিকার থেকেও ঢাকাকে বঞ্চিত করে এবং দলিলে ঘোষিত দেশগুলোকে “non market economies” হিসেবে চিহ্নিত করে - এর কোনো লঙ্ঘন বস্ত্র খাতের জন্য প্রাপ্ত সুবিধাসহ সকল অগ্রাধিকার বাতিল করে দেবে। এই চুক্তি অনুযায়ী চীনের বিদ্যমান বিনিয়োগ এবং সামরিক-প্রযুক্তিগত উপস্থিতি ভেঙে ফেলার প্রয়োজন নেই, তবে এটি ডিজিটাল অবকাঠামো, ডেটা স্থানীয়করণ, বাণিজ্য ব্যবস্থা এবং জ্বালানি অভিমুখীকরণের মতো সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতকে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে রাখে। এটি সেই সংযোগগুলো দাবি করার ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের সক্ষমতাকে সীমিত করে, যা বাংলাদেশকে চীনের রসদ সরবরাহ কৌশলের একটি সহায়ক স্তম্ভে পরিণত করে। ঢাকার দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতিগুলো তারেক রহমানের উত্তরসূরিদের জন্য সহযোগিতার শর্ত নির্ধারণ করে দেয় - যেকোনো নতুন প্রশাসনকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অবশ্যম্ভাবিতাকে বিবেচনায় রাখতে হবে।   যুক্তরাষ্ট্র তার নিরাপত্তা অংশীদারদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে সম্পৃক্ত করছে আঞ্চলিক মিত্রদের সাথে সমন্বিত একটি কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশের সরবরাহ ব্যবস্থায় আমেরিকার প্রভাব বিস্তার ঘটছে। ওয়াশিংটন ভারত, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশ-কেন্দ্রিক প্রকল্পগুলোতে যুক্ত করছে, এই দেশগুলো ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের সম্প্রসারণ রোধে আমেরিকার স্বার্থের অংশীদার এবং বন্দর ও শিল্প অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করার মতো নিজস্ব সম্পদও তাদের রয়েছে। ‘Quad Ports of the Future initiative’ - যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার একটি অংশীদারিত্ব - বাংলাদেশে এমন সমান্তরাল বন্দর অবকাঠামো স্থাপন করছে যা চট্টগ্রামে চীনা উপস্থিতিকে স্থানচ্যুত না করেই তার সাথে সহাবস্থান করে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বন্দরগুলোতে মার্কিন পুঁজি বিনিয়োগের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু করেছে। চট্টগ্রামের দক্ষিণে মাতারবাড়িতে জাপান একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করছে, যা বৃহৎ টনেজের জাহাজগুলোর জন্য আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট ও শিল্প কেন্দ্র হয়ে উঠবে এবং চট্টগ্রামের কাজগুলোকে প্রতিস্থাপন না করে বরং সেগুলোরই প্রতিরূপ তৈরি করবে। মার্কিন বিনিয়োগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলোও রয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুতে, জাপানের মিতসুই বাংলাদেশের সংগঠিত খুচরা বাণিজ্যের অর্ধেকেরও বেশি নিয়ন্ত্রণকারী স্বপ্ন সুপারমার্কেট চেইনকে একটি রূপান্তরযোগ্য ঋণ প্রদান করে এবং ইন্দোনেশিয়ার আলফামার্ট, মিতসুবিশির সাথে অংশীদারিত্বে ঢাকায় তাদের প্রথম দোকান খোলে।   বেইজিংয়ের পাল্টা ব্যবস্থা বিনিয়োগ কর্মসূচি ও সামরিক চুক্তির মাধ্যমে চীনের উপস্থিতি বজায় রাখে। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পৃক্ততার সম্প্রসারণ বেইজিংকে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে অর্জিত প্রভাব বিস্তারের কৌশলগুলো সক্রিয় করতে বাধ্য করেছে। ঢাকা বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে যোগ দেওয়ার পর থেকে বেইজিং ২০১৮ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে এবং ৭.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়ে বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম ঋণদাতার মর্যাদা লাভ করেছে। ২০১০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ৭০ শতাংশেরও বেশি অস্ত্র আমদানি চীন থেকে এসেছে - এই ঐতিহাসিক নির্ভরশীলতা ঢাকার রূপান্তরকে মন্থর করে দিচ্ছে। আমেরিকান প্রতিরক্ষা মানদণ্ড এবং ঠিক এই কারণেই একটি সমান্তরাল চ্যানেল চালু করার জন্য GSOMIA এবং ACSA চুক্তি প্রয়োজন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায়, বেইজিং ঢাকার সাথে সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এমনভাবে বাড়িয়েছে যা পেন্টাগনের সাথে নতুন সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততাকে জটিল করে তুলেছে। ২০২৫ সালের শরতে, উভয় পক্ষ বাংলাদেশে একটি UAV উৎপাদন কারখানা স্থাপনে সম্মত হয়; ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে, অর্থ মন্ত্রণালয় চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ কর্পোরেশন ইন্টারন্যাশনালের প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন ক্ষমতা নির্মাণের অনুমোদন দেয়। চীন ও পাকিস্তানের যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান সরবরাহের বিষয়ে দুই সরকারের মধ্যে আলোচনা চলছে - এই ধরনের চুক্তি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অস্ত্রাগারে চীনা অস্ত্রের উপস্থিতি আরও দৃঢ় করবে। বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্ব একই সাথে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ বজায় রেখেছে। গত ৬ মে, USTR প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরকালে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান তাঁর প্রথম সরকারি চীন সফরে বেইজিংয়ে ওয়াং ই-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তিস্তা নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্পের জন্য আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা চেয়েছেন। তিস্তা নদীটি শিলিগুড়ি করিডোরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে, যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো এবং উপমহাদেশের বাকি অংশের মধ্যে সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থলপথ, যার সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশটি ২১ কিলোমিটার এবং ২০২০ সাল থেকে বেইজিং এই পুনরুদ্ধার প্রকল্পে তার অর্থনৈতিক উপস্থিতি জোরদার করে আসছে। ২০২২ সালে, পাওয়ার চায়না নির্মাণস্থল পরিদর্শন করে এবং চীনা দূতাবাস ১ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তুতি ঘোষণা করে। তারেক রহমান’র সরকারের এই অনুরোধ ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা সত্ত্বেও ঢাকা বেইজিংয়ের সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে না। চীনের প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমগুলোর টিকে থাকা ওয়াশিংটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের ঘটনাগুলো একই বেল্ট অ্যান্ড রোড রাজনৈতিক চক্রের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে - চীনা বিনিয়োগ প্রাথমিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরকারী জোটকে ক্ষমতায় রাখে, কিন্তু ৫ থেকে ১০ বছর পর অবকাঠামোগত আধুনিকীকরণের ফলে সৃষ্ট মধ্যবিত্ত শ্রেণি চুক্তির অস্বচ্ছ শর্তাবলীর বিরুদ্ধে আপত্তি তোলে এবং এমন একটি বিরোধী দলকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে যারা প্রকাশ্যে বেইজিংয়ের সঙ্গে করা চুক্তিগুলো সংশোধন করে।   বাংলাদেশের মুক্ত সমাজে রূপান্তরে আমেরিকান সফট পাওয়ারের ভূমিকা প্রাতিষ্ঠানিক ও লজিস্টিক উপস্থিতির পাশাপাশি, ওয়াশিংটন বাংলাদেশে তার কৌশলের প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক দিকটিও প্রয়োগ করছে, যা বছরের পর বছর ধরে স্টেট ডিপার্টমেন্ট, USAID এবং বেসরকারি ফাউন্ডেশনগুলোর দ্বারা রূপায়িত হয়েছে। ২০২১-২০২৬ সালের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা চুক্তি (Development Objectives Agreement) অনুযায়ী USAID বাংলাদেশকে ৯৫৪ মিলিয়ন ডলার প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়; ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে, পক্ষগুলো সুশাসন এবং আর্থ-সামাজিক সুযোগের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে অতিরিক্ত ২০২ মিলিয়ন ডলার প্রদানের জন্য ষষ্ঠ সংশোধনীতে স্বাক্ষর করে। ২০২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে মোট আমেরিকান আর্থিক উপস্থিতি রেকর্ড ৫৭৩ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।  এই কাঠামোটি প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারদের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করে। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন কমিটি (Bangladesh Rural Advancement Committee), যারা ১৯৭২ সাল থেকে ১৬টি দেশে ১৪৫ মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌঁছেছে, তারা ‘BAMA’ কর্মসূচির জন্য ১৪.৭ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে। CEPPS কনসোর্টিয়াম (IRI, NDI, IFES) তাদের ২১ মিলিয়ন ডলারের “আমার ভোট আমার” কর্মসূচির মাধ্যমে ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের নির্বাচনী পরিবেশকে রূপ দিয়েছে। বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন এবং ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন ব্র্যাকের পদ্ধতিগত অংশীদার এবং চট্টগ্রামে অবস্থিত এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক ঘোষিত USAID-র বাজেট কর্তনের ফলে ৫৫০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ১০০টিরও বেশি কর্মসূচি স্থগিত হয়ে যায়, কিন্তু তা আমেরিকান সফট পাওয়ারের কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনেনি, ২০২১-২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত অংশীদারিত্বের নেটওয়ার্কটি ওয়াশিংটনের বাজেট ওঠানামা থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করে চলেছে। ঐতিহাসিকভাবে, আমেরিকান প্রভাব সবচেয়ে কার্যকরভাবে সেইসব দেশে সুসংহত হয়েছে যেখানে সফট পাওয়ার কয়েক দশক ধরে কাজ করেছে - শিক্ষামূলক কর্মসূচি, নাগরিক সমাজ প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। দীর্ঘমেয়াদী সংহতকরণের পরবর্তী লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ। BRAC, CEPPS, Open Society Foundations (Alexander Soros) এবং Gates Foundation এর সাথে অংশীদারিত্বের যে নেটওয়ার্কটি ওয়াশিংটনের প্রশাসন পরিবর্তনের পরেও টিকে আছে এবং ২০২৬ সালেও চালু থাকবে, তা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করছে যেখানে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি স্বাভাবিকভাবেই গণতান্ত্রিক ব্লকের মানদণ্ড ও মূল্যবোধের দিকে অভিমুখী হবে। সফট পাওয়ারের পাশাপাশি, গণতান্ত্রিক ব্লকের মানদণ্ডে প্রবেশকারী মার্কিন পুঁজি বাংলাদেশের উৎপাদনকে উচ্চতর প্রযুক্তিগত স্তরে উন্নীত করে এবং ঢাকার প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশের ওপর কঠোরতর চাহিদা আরোপ করে। অ্যামাজনের সরাসরি প্রবেশ বাণিজ্য সরবরাহ ব্যবস্থা থেকে চীনা ও ভারতীয় মধ্যস্থতাকারীদের স্থানচ্যুত করে; মার্কিন খুচরা ও পরিষেবা নেটওয়ার্কে বাংলাদেশি আইটি কোম্পানিগুলোর একীভূতকরণ তরুণদের প্রযুক্তি পেশার দিকে আকৃষ্ট করে; এবং বিশ্ব অর্থনীতির ব্যাপক স্বয়ংক্রিয়করণ সত্ত্বেও, উৎপাদন শৃঙ্খলের চীনা মডেলের বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশের বিশাল কর্মশক্তি দেশটির জন্য একটি কৌশলগত সুবিধা হয়ে ওঠে। চীনের রসদ মোতায়েনের অঞ্চলে ওয়াশিংটনের সামরিক উপস্থিতি, প্রশান্ত মহাসাগরীয় সংঘাতের মুহূর্তে মালাক্কা প্রণালীর স্থলপথের বিকল্প পথটিকে একটি সংরক্ষিত সংযোগ হিসেবে তার কার্যকারিতা থেকে বঞ্চিত করে ঠিক সেই কার্যকারিতা, যার জন্য বেইজিং কয়েক দশক ধরে মধ্যপন্থা প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। মার্কিন সামরিক উপস্থিতির সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা অংশীদারদের বিনিয়োগ, বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে মার্কিন পুঁজির প্রবেশ এবং সফট পাওয়ার নেটওয়ার্কের বিস্তার বাংলাদেশকে বেইজিংয়ের প্রভাব বলয় থেকে বেরিয়ে একটি মুক্ত সমাজের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এক টেকসই পথে চালিত করছে।   মূল সংবাদ - থেকে অনূদিত
যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী
যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী
তিনটি ইরানি ট্যাংকার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র
তিনটি ইরানি ট্যাংকার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র
১ কোটি টাকা দিলে মামলা থেকে নাম তুলে দেওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন সাকিব
১ কোটি টাকা দিলে মামলা থেকে নাম তুলে দেওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন সাকিব
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর একটি থেকে নাম সরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তাঁকে এক কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি স্পষ্টভাবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। সম্প্রতি দৈনিক প্রথম আলো’র এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, এফআইআরে বাদীপক্ষের সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তাঁর কাছে এই প্রস্তাব পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, “বলেছে যে এক কোটি টাকা দিলে আমার নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে। কিন্তু যারা এই কথা বলেছে, তারা বুঝতে পারেনি যে মামলা হয়ে যাওয়ার পর চাইলেই নাম তুলে দেওয়া যায় না। শেষ পর্যন্ত পুলিশের তদন্তেই বিষয়টি নির্ধারিত হবে।” সাকিব আরও বলেন, টাকা দেওয়া মানে নিজের দোষ স্বীকার করার মতো বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। তাই তিনি এ ধরনের প্রস্তাবে সাড়া দেননি। বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থানরত সাকিব জানান, দেশে ফিরতে তাঁর মূল সমস্যা গ্রেপ্তার নয়; বরং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। তিনি বলেন, “আমি চাই অন্তত একটি স্বাভাবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক। মব বা সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা তো থাকতেই পারে।” তিনি জানান, আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তিনি বিষয়গুলোর সমাধান চাচ্ছেন এবং একটি মামলার বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি হতে পারে বলেও আশা করছেন। জাতীয় দলের বাইরে থাকা প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা অবশ্যই বিশেষ কিছু এবং সেটি তিনি মিস করেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর আফসোস নেই। “কয়েকবার সাসপেন্ড হয়ে অভ্যাস হয়ে গেছে,” হাসতে হাসতে বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, জাতীয় দলের সুযোগ-সুবিধা ও অনুশীলনের পরিবেশের বিকল্প নেই। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করায় নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। এজন্য কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলতে হলে তিনি আগেভাগে গিয়ে প্রস্তুতি নেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট ও এনডোর্সমেন্ট নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তিনি সময়ের আগেই অনেক কিছু করেছেন। তাঁর ভাষায়, “আমি যখন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলতে যেতাম, তখন আমাকে দেশদ্রোহী বলা হতো। এখন এগুলো অনেক স্বাভাবিক হয়ে গেছে।” তিনি মনে করেন, তাঁর সময়ের সমালোচনাগুলো পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য পথ সহজ করেছে। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই বলেও জানিয়েছেন সাকিব। তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি একটি নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর মতে, রাজনীতি মানুষের সেবার জায়গা হওয়া উচিত, যদিও দেশের মানুষ রাজনীতিকে নেতিবাচকভাবে দেখে। তিনি বলেন, “ভালো মানুষ যেন ভালো থাকে এবং খারাপ কাজের বিচার হয় এটাই সবাই চায়।” সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলাকে তিনি বাংলাদেশের জন্য ক্ষতির কারণ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, বিশ্বকাপ না খেলায় বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রমাণের একটি বড় সুযোগ হারিয়েছেন। সাকিবের ভাষায়, “বিশ্বকাপই আসল পরীক্ষা। সেই পরীক্ষার সুযোগটা আমরা হারিয়েছি।” আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার বিষয়ে আশাবাদী সাকিব জানান, সুযোগ পেলে তিনি আবারও নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবেন। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে এখনো নিজের অবদান রাখার সামর্থ্য আছে বলে মনে করেন তিনি। ২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি এই অলরাউন্ডার।
বিশ্বকাপ দলে চমক রেখে স্কোয়াড ঘোষণা করল আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপ দলে চমক রেখে স্কোয়াড ঘোষণা করল আর্জেন্টিনা
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। ফিফার নির্ধারিত সময়সীমার শেষ দিনে প্রকাশ করা এই দলে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন বেশ কয়েকজন নতুন ও তরুণ ফুটবলার। প্রাথমিক স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে ধরা হচ্ছে রিভার প্লেটের তরুণ গোলরক্ষক সান্তিয়াগো বেলট্রানকে। ছয় গোলরক্ষকের তালিকায় জায়গা করে নিয়ে তিনি আলোচনায় উঠে এসেছেন। এছাড়া বোকা জুনিয়র্সের লাউতারো দি ললো এবং হেতাফের জাইদ রোমেরোও প্রথমবারের মতো বড় মঞ্চের প্রাথমিক দলে সুযোগ পেয়েছেন। দলে ফিরেছেন আলেহান্দ্রো গারনাচো, মাতিয়াস সুলে ও ক্লদিও এচেভেরির মতো তরুণ প্রতিভাবান ফুটবলাররা। অভিজ্ঞদের মধ্যে রয়েছেন লিওনেল মেসি, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, রদ্রিগো দি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, লাউতারো মার্তিনেজ ও জুলিয়ান আলভারেজের মতো পরিচিত মুখ। স্কালোনির ঘোষিত এই দীর্ঘ তালিকা থেকে পরবর্তীতে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল নির্বাচন করা হবে। বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড়দের ফর্ম, ফিটনেস ও প্রস্তুতি বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর্জেন্টিনার প্রাথমিক স্কোয়াডে ইউরোপের বিভিন্ন বড় ক্লাবের পাশাপাশি দেশীয় লিগের ফুটবলারদেরও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এতে অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তির সমন্বয়ে ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল গড়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
শান্তর সেঞ্চুরিতে ২৬৬ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ
শান্তর সেঞ্চুরিতে ২৬৬ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ
নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরিতে নিউজিল্যান্ডকে ২৬৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে আজ ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি পেয়েছেন শান্ত। জেডন লেনেক্সের করা ৪১তম ওভারের শেষ বলে লং অনে সিঙ্গেল নিয়ে তিন অংক স্পর্শ করেন বাঁহাতি ব্যাটার। তাতে সেঞ্চুরির খরা কেটেছে। এই চট্টগ্রামেই সর্বশেষ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০২৪ সালের মার্চে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। ১১৯ বলে ১০৫ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ৯ চার ও ২ ছক্কায়। ২০তম ইনিংসের পর সেঞ্চুরি পাওয়া শান্ত আজ বাংলাদেশকে শুরুর ধাক্কা থেকেও বাঁচিয়েছেন। তাকে অবশ্য চতুর্থ উইকেটে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন লিটন দাস। দুজনে মিলে ১৬০ রানের জুটি না গড়লে হয়তো আড়াই শর উপরে স্কোর দাঁড় করাতে পারত না বাংলাদেশ। দুজনের দুর্দান্ত ‍জুটিটি ভাঙ্গে লিটন ব্যক্তিগত ৭৬ রানে আউট হলে।
পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ম্যানসিটি
পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ম্যানসিটি
শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের আরও এগিয়ে নিলো ম্যানচেস্টার সিটি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে বার্নলিকে ১-০ গোলে হারিয়ে পেপ গার্দিওলার দল উঠে গেছে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে। আর বার্নলিকে ঠেলে দিয়েছে চ্যাম্পিয়নশিপে। দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে আর্সেনালের বিপক্ষে নয় পয়েন্টের ব্যবধান ঘুচিয়ে গোলসংখ্যায় এগিয়ে থেকে শীর্ষে উঠে এসেছে সিটি। মৌসুমের শুরুর পর এই প্রথম এক নম্বর অবস্থানে ফিরেছে গার্দিওলার শিষ্যরা। টানা ১১ ম্যাচ অপরাজিত থেকে পাঁচ ম্যাচ বাকি থাকতেই তারা পেছনে ফেলেছে গানারদের। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে গোলের সূচনা করেন আর্লিং হাল্যান্ড। জেরেমি ডকুর পাস ধরে একাই এগিয়ে গিয়ে মার্টিন দুব্রাভকার ওপর দিয়ে নিখুঁত চিপ শটে বল জালে জড়ান তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে আরেকবার চেষ্টা করলেও এবার বল লাগে পোস্টে। এর আগে সফরকারীরা আরও একটি গোলের খুব কাছাকাছি গিয়েছিল। রায়ান শেরকির শক্তিশালী শট দারুণ দক্ষতায় ক্রসবারে ঠেলে দেন দুব্রাভকা। এই হারে বার্নলি পরের মৌসুমে তলানির দল উলভসের সঙ্গে দ্বিতীয় বিভাগের লিগে নেমে যাচ্ছে। তিন বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো তাদের চ্যাম্পিয়নশিপে অবনমন হলো।
শোবিজ তারকাদের মনোনয়ন না দেওয়ায় ‘খুশি’ ন্যানসি
শোবিজ তারকাদের মনোনয়ন না দেওয়ায় ‘খুশি’ ন্যানসি
বক্স অফিস মাতিয়ে রেখেছে ‘ভুত বাংলা’
বক্স অফিস মাতিয়ে রেখেছে ‘ভুত বাংলা’

পাঠানকে টপকে শীর্ষে ‘ধুরন্ধর ২’

বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী নারী অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ে
বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী নারী অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ে
সংরক্ষিত আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাননি শোবিজ তারকারা
সংরক্ষিত আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাননি শোবিজ তারকারা
আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিরোধী আইনজীবীদের দমন-পীড়নের অভিযোগ: গণতন্ত্র ও বিচারব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত
আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিরোধী আইনজীবীদের দমন-পীড়নের অভিযোগ: গণতন্ত্র ও বিচারব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিসহ দেশের বিভিন্ন জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নির্বাচনে প্রগতিশীল ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের অংশগ্রহণে পরিকল্পিত বাধা, মনোনয়নপত্র বাতিল এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৪৯টি আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের মধ্যে মাত্র ১৭টিতে বিরোধী মতের আইনজীবীরা সীমিত আকারে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। বাকি অধিকাংশ সমিতিতে নির্বাচন কার্যত একতরফাভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতি, বগুড়া, পাবনা, নাটোর, নওগাঁ, জয়পুরহাট, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, জামালপুর, শরীয়তপুর, চাঁদপুর, ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিসহ বহু স্থানে বিরোধী আইনজীবীদের মনোনয়নপত্র দাখিল বা নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নড়াইল, কুষ্টিয়া, পিরোজপুর, কিশোরগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতিতে আংশিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কয়েকটি সমিতিতে মাত্র ২ থেকে ১৩টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে অধিকাংশ পদেই একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনেক স্থানে বিরোধী আইনজীবীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি এবং সরকারি দলের সমর্থক আইনজীবীরা প্রভাব বিস্তার করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। আইনজীবীদের একাংশের দাবি, দেশের আদালতপাড়ায় বর্তমানে ভয়ের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যারা ভিন্নমত পোষণ করেন কিংবা সরকারবিরোধী অবস্থান নেন, তাদের পেশাগত ও সাংগঠনিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে। এ অবস্থাকে তারা বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, আইনজীবী সমিতি শুধু একটি পেশাজীবী সংগঠন নয়; এটি দেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। সেই জায়গায় যদি ভিন্নমত দমন, প্রার্থীতা বাতিল এবং নির্বাচনী অধিকার হরণ করা হয়, তাহলে তা গোটা বিচারব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রগতিশীল আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং সরকারি দলের সমর্থক গোষ্ঠীর প্রভাব ও চাপের কাছে নির্বাচন ব্যবস্থা জিম্মি হয়ে পড়েছে। এতে আইনজীবী সমাজে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। আইনজীবী নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “বার নির্বাচনকে যদি দলীয় প্রভাব ও ভয়ভীতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তাহলে বিচারাঙ্গনের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আইন পেশাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার বানানোর যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা সময়ের দাবি।” এ ঘটনায় অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, বাধা ও অনিয়মের বিচার এবং সব আইনজীবীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থা, আন্তর্জাতিক আইনজীবী সংগঠন এবং গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
জাইমা রহমানকে নিয়ে পোস্ট করায় যুবক গ্রেপ্তার
জাইমা রহমানকে নিয়ে পোস্ট করায় যুবক গ্রেপ্তার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেয়ার অভিযোগে শাকিল আহমেদ (২২) নামে এক কলেজছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকালে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের ভাউলাগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এঘটনায় বুধবার রাতে চিলাহাটি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সম্রাট বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে দেবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতে তোলার কথা রয়েছে। শাকিল ইউনিয়নের নগর ভাউলাগঞ্জ এলাকার বুলবুল ইসলামের ছেলে। তিনি ঢাকার তেজগাঁও কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) শাকিল আহমেদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজের ছবির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে একটি বিতর্কিত পোস্ট করেন। ছবিটির পাশে লিখেন ‘তারেক কাকু সব কার্ড ছাপিয়ে দিল খালি আমাদের বিয়ের কার্ড দিলো না। ১. পরিবার কার্ড ২. তেল কার্ড ৩. খেলাধুলা কার্ড আরও কিছু কার্ড রেডি’। পরে পোস্টের স্ক্রিনশট দ্রুতই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টটি নজরে আসার পর স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে দেবীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুকসহ পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ভাউলাগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে শাকিল আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। ‎দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা দেখা দেয়। অভিযুক্তের ফেসবুক প্রোফাইল পর্যালোচনায় বিতর্কিত পোস্টের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।