শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩
পুলিশে সরাসরি ৪ হাজার এসআই নিয়োগের উদ্যোগ
পুলিশে সরাসরি ৪ হাজার এসআই নিয়োগের উদ্যোগ
বাংলাদেশ পুলিশে বড় ধরনের জনবল পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে চার হাজার উপপরিদর্শক (এসআই-নিরস্ত্র) পদ পূরণের উদ্যোগের পাশাপাশি ৫০০টি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদ সৃষ্টির প্রস্তাবও উঠেছে। বাহিনীকে আধুনিক, দক্ষ ও জনবান্ধব করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ৬ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তরে পলিসি গ্রুপের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। মহাপরিদর্শক (আইজিপি) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি, পিবিআই, সিআইডি), র‍্যাবের মহাপরিচালক, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স শাখা থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ রেগুলেশনস (পিআরবি), ১৯৪৩ অনুযায়ী এসআই পদের ৫০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ এবং বাকি ৫০ শতাংশ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। তবে নতুন প্রস্তাবে বিভাগীয় কোটা সংকুচিত বা বাতিল করে সরাসরি নিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে। পুলিশের মতে, অপরাধের ধরন ও মাত্রা বদলে যাওয়ায় দক্ষ জনবল বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। সাইবার অপরাধ, সংগঠিত অপরাধ, উগ্রবাদ ও আর্থিক জালিয়াতির মতো জটিল অপরাধ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রশিক্ষিত কর্মকর্তার প্রয়োজন বাড়ছে। বর্তমানে সাইবার অপরাধ তদন্ত সীমিত ও কেন্দ্রভিত্তিক হওয়ায় জেলা পর্যায়ে সেবা সম্প্রসারণেও ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন জিডি, মামলা গ্রহণ, তদন্ত, গোয়েন্দা তৎপরতা ও অপারেশনাল কাজে দক্ষ জনবল সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। এসব বিবেচনায় দ্রুত সংখ্যায় এসআই নিয়োগ বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। তবে এ পরিকল্পনা ঘিরে নিম্নপদস্থ সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, সরাসরি নিয়োগ বাড়লে পদোন্নতির স্বাভাবিক ধারা ব্যাহত হতে পারে। বর্তমানে বিপুলসংখ্যক কনস্টেবল ও এএসআই এসআই পদে উন্নীত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। ইতিমধ্যে ৯৪৬ জন সদস্য পদোন্নতি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। মাঠপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা সদস্যদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তাঁদের মতে, বিদ্যমান পদোন্নতি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত নিয়োগ দেওয়া হলে উদ্বেগ কমবে। অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সরাসরি নিয়োগ বাড়ালে দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক জটিলতা ও তদবিরের প্রবণতা কমবে। বৈঠকে ৫০০টি নতুন এএসপি পদ সৃষ্টির প্রস্তাবও আলোচনা হয়। ২০২৬-২০৩০ সময়ে বিপুলসংখ্যক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অবসর এবং বিদ্যমান শূন্যপদের প্রেক্ষাপটে মধ্যম পর্যায়ের নেতৃত্ব শক্তিশালী করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত পদগুলোর মধ্যে ‘এএসপি ক্রাইম অ্যান্ড অপস’, ‘এএসপি ডিবি’ ও ‘এএসপি প্রসিকিউশন’ উল্লেখযোগ্য। তবে একসঙ্গে বড় সংখ্যায় নিয়োগ হলে ভবিষ্যতে পদোন্নতি জটিলতার আশঙ্কাও তুলে ধরেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তারা প্রত্যাশিত পদোন্নতি না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এএসপি পদ সৃষ্টির বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাব তৈরিতে একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিটি কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা বিবেচনায় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেবে। পরে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তবে পলিসি গ্রুপের আলোচনায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সু চির সাজার মেয়াদ কমালো মিয়ানমার
সু চির সাজার মেয়াদ কমালো মিয়ানমার

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী / দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে

জনগণকে গর্জে ওঠার আহ্বান জামায়াত আমিরের

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু
কুষ্টিয়ায় ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে দুজন নিহত, মারা গেছে তিনটি ঘোড়াও
ফের একসঙ্গে জুটি বাঁধলেন আহান-অনীত
রাজশাহীতে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
বিএনপির সমালোচনা করে ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আরও ৯১ শিশু
তামান্নার ক্ষতিপূরণের আবেদন খারিজ
ইরানের সঙ্গে চুক্তির জন্য পাকিস্তান যেতে পারেন ট্রাম্প
  • ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৫ পিএম
    পাম্পে তেল নেই, তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ দেশবাসী। বিএনপি সরকার জ্বালানি সংকট নিরসনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে মনে করেন কী?

    পাম্পে তেল নেই, তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ দেশবাসী। বিএনপি সরকার জ্বালানি সংকট নিরসনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে মনে করেন কী?

    • হ্যাঁ
    • না
    • মন্তব্য নেই
    +
    =
    সাবমিট
    মোট ভোটদাতাঃ ৩০০ জন
    মোট ভোটারঃ ৩০০
    ভোট দিন
    Link Copied
অনলাইন জরিপ
রাঙ্গামাটিতে ইউপিডিএফ কর্মীকে গুলি করে হত্যা
মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাংলাদেশি যুবকের
নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার, হত্যায় জড়িত সন্দেহে দুই ভাইকে পিটিয়ে হত্যা
  • সর্বশেষ
  • দিনের সেরা
  • সপ্তাহের সেরা
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী / দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে
বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) চট্টগ্রামে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। লোডশেডিং প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে শিল্প ও কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। এ কারণে গৃহস্থালি খাতে তুলনামূলকভাবে কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে মে মাসে ফসল উত্তোলন শুরু হলে পুনরায় গৃহস্থালি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এসময় জ্বালানি সচিব সাইফুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এহসানুল হক, জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব আমির হোসেন চৌধুরী এবং ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশে সরাসরি ৪ হাজার এসআই নিয়োগের উদ্যোগ
পুলিশে সরাসরি ৪ হাজার এসআই নিয়োগের উদ্যোগ
বাংলাদেশ পুলিশে বড় ধরনের জনবল পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে চার হাজার উপপরিদর্শক (এসআই-নিরস্ত্র) পদ পূরণের উদ্যোগের পাশাপাশি ৫০০টি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদ সৃষ্টির প্রস্তাবও উঠেছে। বাহিনীকে আধুনিক, দক্ষ ও জনবান্ধব করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ৬ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তরে পলিসি গ্রুপের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। মহাপরিদর্শক (আইজিপি) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি, পিবিআই, সিআইডি), র‍্যাবের মহাপরিচালক, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স শাখা থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ রেগুলেশনস (পিআরবি), ১৯৪৩ অনুযায়ী এসআই পদের ৫০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ এবং বাকি ৫০ শতাংশ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। তবে নতুন প্রস্তাবে বিভাগীয় কোটা সংকুচিত বা বাতিল করে সরাসরি নিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে। পুলিশের মতে, অপরাধের ধরন ও মাত্রা বদলে যাওয়ায় দক্ষ জনবল বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। সাইবার অপরাধ, সংগঠিত অপরাধ, উগ্রবাদ ও আর্থিক জালিয়াতির মতো জটিল অপরাধ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রশিক্ষিত কর্মকর্তার প্রয়োজন বাড়ছে। বর্তমানে সাইবার অপরাধ তদন্ত সীমিত ও কেন্দ্রভিত্তিক হওয়ায় জেলা পর্যায়ে সেবা সম্প্রসারণেও ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন জিডি, মামলা গ্রহণ, তদন্ত, গোয়েন্দা তৎপরতা ও অপারেশনাল কাজে দক্ষ জনবল সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। এসব বিবেচনায় দ্রুত সংখ্যায় এসআই নিয়োগ বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। তবে এ পরিকল্পনা ঘিরে নিম্নপদস্থ সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, সরাসরি নিয়োগ বাড়লে পদোন্নতির স্বাভাবিক ধারা ব্যাহত হতে পারে। বর্তমানে বিপুলসংখ্যক কনস্টেবল ও এএসআই এসআই পদে উন্নীত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। ইতিমধ্যে ৯৪৬ জন সদস্য পদোন্নতি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। মাঠপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা সদস্যদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তাঁদের মতে, বিদ্যমান পদোন্নতি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত নিয়োগ দেওয়া হলে উদ্বেগ কমবে। অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সরাসরি নিয়োগ বাড়ালে দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক জটিলতা ও তদবিরের প্রবণতা কমবে। বৈঠকে ৫০০টি নতুন এএসপি পদ সৃষ্টির প্রস্তাবও আলোচনা হয়। ২০২৬-২০৩০ সময়ে বিপুলসংখ্যক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অবসর এবং বিদ্যমান শূন্যপদের প্রেক্ষাপটে মধ্যম পর্যায়ের নেতৃত্ব শক্তিশালী করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত পদগুলোর মধ্যে ‘এএসপি ক্রাইম অ্যান্ড অপস’, ‘এএসপি ডিবি’ ও ‘এএসপি প্রসিকিউশন’ উল্লেখযোগ্য। তবে একসঙ্গে বড় সংখ্যায় নিয়োগ হলে ভবিষ্যতে পদোন্নতি জটিলতার আশঙ্কাও তুলে ধরেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তারা প্রত্যাশিত পদোন্নতি না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এএসপি পদ সৃষ্টির বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাব তৈরিতে একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিটি কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা বিবেচনায় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেবে। পরে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তবে পলিসি গ্রুপের আলোচনায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে (মুজিবনগর) স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে। দিনটি উপলক্ষে বিগত বছরগুলোতে সরকারি নানা আয়োজন থাকলেও এবার কোনো কর্মসূচি পালিত হচ্ছে না। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। পরে এই বৈদ্যনাথতলাকেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর নামকরণ করা হয়। একই বছরের ১০ এপ্রিল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকার গঠন হয়। সেই সরকারের নেতৃত্বে ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। এদিন গণপ্রজাতন্ত্র রূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার ঘোষণাপত্রে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাকে সমর্থন ও অনুমোদন করা হয়। সংবিধান প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি ও সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া তাজউদ্দীন আহমদ অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী, খন্দকার মোশতাক আহমেদ পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী এবং এএইচএম কামরুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী অস্থায়ী সরকারের মুক্তিবাহিনীর প্রধান কমান্ডার এবং মেজর জেনারেল আবদুর রব চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন। মুজিবনগর সরকারের শপথের দিন ১২ জন আনসার সদস্য ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পর দিন ১১ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ দেশবাসীর উদ্দেশে বেতারে ভাষণ দেন। তার এই ভাষণ আকাশবাণী থেকে একাধিকবার প্রচার হয়। ওই ভাষণে দেশব্যাপী পরিচালিত প্রতিরোধ যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন তাজউদ্দীন আহমদ। এছাড়া ১৭ এপ্রিল মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের তারিখ নির্ধারিত হয়। তাজউদ্দীনের ভাষণের মধ্য দিয়েই দেশ-বিদেশের মানুষ জানতে পারেন বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি আইনানুগ সরকার গঠিত হয়েছে। এরই পথপরিক্রমায় ১৭ এপ্রিল সকালে মুজিবনগরে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এদিকে প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হলেও এ বছর এখনো পর্যন্ত মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে কোনো সরকারি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। মেহেরপুর জেলা প্রশাসক শিল্পি রানী রায় জানান, ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস পালন বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান মারা গেছেন

বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ৬টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিনি মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা (সিনিয়র তথ্য অফিসার) মো. কামাল হোসেন। এর আগে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গত শনিবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাকে। তিনি দীর্ঘদিন ম্যালেরিয়াসহ অন্যান্য জটিলতায় ভুগছিলেন।   উল্লেখ্য, মাহবুবুর রহমান ১৯৯৪ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কাস্টমস ও এক্সাইজ) ক্যাডারের ১৩তম ব্যাচে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগ দেন।   তিনি ২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন কাস্টম হাউস, কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে ডেপুটি কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার এবং অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ দেশবাসী

জ্বালানিসংকটে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। তাতে বাড়ছে লোডশেডিং। রাজধানীতে এখনো তা তীব্র না হলেও গ্রামাঞ্চলে দিনে লোডশেডিং হচ্ছে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা। আকস্মিক অস্বাভাবিক লোডশেডিং হওয়ায় গরমের মধ্যে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। দিনে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি রাতে লোডশেডিং বাড়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বরিশাল নগরীতে দিনের ১২ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। রাতেও একই পরিস্থিতি চলায় দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। দেশে এমন কয়েকটি অঞ্চলে বিদ্যুতের হাহাকার তৈরি হয়েছে। বিদ্যুতের সংকটে অতিষ্ঠ লাখো মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি আমদানিতে জটিলতা, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিল সমস্যার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কয়লা চলে আসায় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় আবার চালু হচ্ছে। তাঁদের আশা, শিগগিরই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে লোডশেডিং থাকবেই বলেও তাঁরা জানান। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুত্সংকট শুধু একটি অবকাঠামোগত সমস্যা নয়, এটি এখন অর্থনীতি, কৃষি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে গ্রামীণ অর্থনীতি পর্যন্ত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য বলছে, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় দেশে ১৪ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১২ হাজার ৩২৪ মেগাওয়াট। তখন চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি ছিল দুই হাজার ২৬ মেগাওয়াট। পরে বিকেলে উৎপাদন বাড়ানো হলে লোডশেডিং কিছুটা কমে আসে। বিকেল ৫টার দিকে ১৪ হাজার ১৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন করা হয় ১৩ হাজার ১৪৮ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিং ছিল এক হাজার ৩২ মেগাওয়াটের মতো। বিপিডিবির তথ্য বলছে, আগামী মাসে বিদ্যুতের চাহিদা উঠতে পারে সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াটে। পর্যাপ্ত জ্বালানির ব্যবস্থা করা না গেলে এই বাড়তি চাহিদার সময় ব্যাপকভাবে লোডশেডিং হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশঙ্কা করছেন। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হওয়ায় ঘাটতি দেখা দিলেও এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাচ্ছে। এরই মধ্যে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট চালু হয়েছে। পাশাপাশি এসএস পাওয়ার প্লান্টের একটি ইউনিটও পূর্ণ সক্ষমতায় (ফুল লোডে) উৎপাদনে যাচ্ছে, বিশেষ করে সন্ধ্যার সময় তাদের উৎপাদন সর্বোচ্চ থাকে। এসব মিলিয়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। ফলে দুপুরের পর থেকে লোডশেডিং পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। মো. জহুরুল ইসলাম আরো বলেন, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা আসছে এবং আনলোড প্রক্রিয়া চলছে। শিগগিরই সেখান থেকেও উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে হঠাৎ করে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে এবং এসএস পাওয়ার প্লান্টে কয়লা সরবরাহে সামান্য বিলম্ব হচ্ছে। সব মিলিয়ে আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন আরো বাড়বে এবং পরিস্থিতির আরো উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান জ্বালানি গ্যাস ও কয়লার সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বেসরকারি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানির মজুদও ফুরিয়ে আসছে। ফলে দেশে প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানির অভাবে তা পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বর্তমানে সরকারি হিসাবে বিদ্যুতের ঘাটতি দুই হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমছে। ব্যয়বহুল হওয়ায় তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। জ্বালানি সরবরাহে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতে বিপুল অঙ্কের বকেয়া, ভর্তুকির ঘাটতি, জ্বালানি আমদানিতে অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের শর্ত—সব মিলিয়ে দেশের বিদ্যুৎ খাত এখন গভীর আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। ফলে সামনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিপিডিবি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশি-বিদেশি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া ৪৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। সাত-আট মাস ধরে বিল পরিশোধ না হওয়ায় এসব কেন্দ্রের উদ্যোক্তারা চরম সংকটে পড়েছেন। একই সঙ্গে আমদানি করা বিদ্যুতের বিলও বকেয়া পড়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। এ বিষয়ে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডেভিড হাসানাত গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জ্বালানি তেলের সংকটে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গেছে। আমাদের প্রায় পাঁচ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে মাত্র প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন হচ্ছে। পর্যাপ্ত তেল থাকলে বেসরকারি খাত থেকে আরো অতিরিক্ত দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট সরবরাহ সম্ভব ছিল। তেলসংকটের কারণে উৎপাদনে রেশনিং করা হচ্ছে এবং মোট সক্ষমতার মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে, যা শিগগিরই ২০ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এতে লোডশেডিং আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ ডেভিড হাসানাত বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিপুল বকেয়া বিল ও ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় তেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে, আর আমদানি করতেও প্রায় ৪০ দিন সময় লাগে। ফলে দ্রুত সংকট কাটানো সম্ভব নয়। গ্যাস ও কয়লার সরবরাহও কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হচ্ছে। মে মাসে সংকট তীব্র আকার নিতে পারে, যখন বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছতে পারে এবং বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। বিপাকে শিল্প, কৃষি ও ব্যবসা, জনজীবনে দুর্ভোগ গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। কারখানাগুলো নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে হালকা ও মাঝারি শিল্প খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক উদ্যোক্তা বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে গিয়ে উৎপাদন ব্যয় বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। লোডশেডিংয়ের সবচেয়ে বড় আঘাত পড়ছে কৃষি খাতে। বিদ্যুত্চালিত সেচব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় বোরো ধানের চাষ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সেচের অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে ফসলের জমি। মাছের হ্যাচারিগুলোতেও বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন কমে গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকায় সময়মতো পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, ফলে ধানের ফলন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই দিন-রাত মিলিয়ে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এতে জনজীবন যেমন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও শিল্প উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বরিশাল নগরী ও আশপাশের এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে, পরের ঘণ্টা নেই—এমন অনিয়মিত সরবরাহে ব্যবসা-বাণিজ্য, পানি সরবরাহ ও মোবাইল নেটওয়ার্কে বড় ধরনের ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনের ১২ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। রাতেও একই পরিস্থিতি চলায় দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার এবং বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ পাওয়ায় লোডশেডিং দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। সেখানে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে ময়মনসিংহে। নগর ও গ্রামে পালাক্রমে লোডশেডিং চলছে। কোথাও কোথাও চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক ও মাছ চাষিরা। সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ফসল উৎপাদন ও মাছের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ঝিনাইদহে অনিয়মিত লোডশেডিংয়ে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। নির্ধারিত সময়সূচি ছাড়াই বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা ও ছোট ব্যবসাগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। পাবনায় প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে, আর গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরো খারাপ। একইভাবে নেত্রকোনা, মেহেরপুর ও গাজীপুরের কালিয়াকৈরেও চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। জ্বালানিসংকটের কারণে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে দিন-রাত লোডশেডিং বেড়ে গেছে এবং জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। রাজধানী ঢাকারও বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং নগরবাসীকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। বিশেষ করে ধামরাইয়ে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের পর দেড় ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে, যা শিল্প উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি, জ্বালানিসংকট এবং জাতীয় গ্রিডে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকাই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে গ্রীষ্ম মৌসুমে জনভোগান্তি আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   তথ্যসূত্র : কালের কণ্ঠ
জনগণকে গর্জে ওঠার আহ্বান জামায়াত আমিরের
জনগণকে গর্জে ওঠার আহ্বান জামায়াত আমিরের
দেশের আর্থিক সম্পদ রক্ষায় জনগণকে গর্জে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষায় তাদের আন্দোলনে পাশে থাকবে তার দল। জামায়াত আমিরের দাবি, বিএনপি জনগণের রায় নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সুস্থ রাজনীতির ধারা অব্যাহত রাখতে চাই বিধায় দেশের বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছি। জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জুলাইয়ের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে।  জামায়াত আমিরের মতে, সাবেক একজন উপদেষ্টা এবং বর্তমান সরকারের একজন মন্ত্রীর বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়েছে, গত নির্বাচনে কিভাবে কারচুপি করা হয়েছে।  ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, সংবিধানের ইচ্ছামতো সংশোধনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালাতে চায় বিএনপি সরকার। সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে। তাই জনস্বার্থ রক্ষায় রাজপথে নামতে বাধ্য হচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য। গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে নতুন ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। গণতান্ত্রিক সব প্রতিষ্ঠানে অগণতান্ত্রিক দলীয়করণের মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। এ সময় সংসদ এবং রাজপথে জনগণের এজেন্ডা নিয়ে জামায়াত সরব থাকবে জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, দেশের আর্থিক সম্পদ রক্ষায় জনগণকে গর্জে উঠতে হবে৷ আমরা জনগণের পাশে থাকবো।
বিএনপির সমালোচনা করে ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ
বিএনপির সমালোচনা করে ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শোভন বিএনপির দলীয় অবস্থানের সমালোচনা করে পদত্যাগ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, জুলাইয়ের অঙ্গীকারের বিরোধিতা এবং সংস্কার ইস্যুতে দলটির প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা তাকে এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, রাষ্ট্র আজ এক গভীর সংকটের ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে। সাম্যবাদী বিপ্লবের মহান আদর্শকে ধারণ করে ছাত্র–জনতা–সিপাহির ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে ২১ দিনের পাল্টাপাল্টি প্রতিরোধ যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত ৫ আগস্ট, তার চেতনা আজ উপেক্ষিত, তার অঙ্গীকার পদদলিত। ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের অন্ধ প্রতিযোগিতা এবং বিশ্বাসঘাতকতার কালো ছায়ায় সহস্র শহীদের আত্মত্যাগ আজও ন্যায্য মর্যাদা পায়নি, এ জাতির জন্য এক গভীর লজ্জা ও বেদনার ইতিহাস। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সেই দুর্দিনে আমরা মাথা নত করিনি। মহান আল্লাহর ওপর অটল ভরসা ও অদম্য সাহসে আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম বলেই জাতি রক্ষা পেয়েছিল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে। নতুবা প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ পরিণত হতো এক রক্তাক্ত বিপর্যয়ের প্রান্তরে। অথচ আজও একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেছে, এ এক নির্মম বাস্তবতা। তিনি আরো লেখেন, চলমান জাতীয় দুর্যোগের প্রেক্ষাপট মোকাবিলায় সম্পূর্ণভাবে কপটতার আশ্রয় নেওয়া দুর্বল সরকার ও দলের (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি। আমার এক দশকের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশায় ছিল না; বরং তা ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও গণমানুষের আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই অতঃপর; নিপীড়িত দেশমাতা মরহুমা বেগম জিয়ার প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু বর্তমানে দলটির নীতি ও কার্যক্রমের সঙ্গে একজন আদর্শনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে আমার পথচলা আর সম্ভব নয়। ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, স্মরণ রাখা আবশ্যক—রাষ্ট্রই সর্বোচ্চ, দল তার একটি উপাদান মাত্র। রাষ্ট্রের স্বার্থ, ন্যায় ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস চলতে পারে না, হবেও না। অতএব, জাতির স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায়ের প্রশ্নে যদি পুনরায় সংগ্রাম অনিবার্য হয়, তবে দেশমাতৃকার সম্মান রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে আমরা প্রস্তুত থাকব। অন্যায়ের সামনে নতজানু নয়, প্রয়োজনে শাহাদাতই হবে আমাদের চূড়ান্ত অঙ্গীকার। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা হবে: আইনমন্ত্রী
রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা হবে: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সচেতন এবং এ লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. মনোয়ার হোসেনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ কথা জানান। আইনমন্ত্রী জানান, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলো যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের সুপারিশ করতে সরকার ইতিমধ্যে দুটি কমিটি গঠন করেছে। গত ৫ মার্চ তারিখে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সমন্বয়ে ৪ সদস্যবিশিষ্ট জেলা পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা কমিটির সুপারিশগুলো চূড়ান্ত পর্যালোচনার জন্য গত ৮ মার্চ তারিখে আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি ‘কেন্দ্রীয় কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত কমিটির নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো হত্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। তবে বর্তমান প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যসহ যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাজনৈতিক, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা (হত্যা মামলাসহ) যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করা হলে তা পর্যালোচনা করবে উভয় কমিটি। যদি কোনো মামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক হিসেবে প্রমাণিত হয়, তবে তা প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংসদে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলা থেকে ভুক্তভোগীদের প্রতিকার প্রদানে আন্তরিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’  ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, জেলা পর্যায় থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে এবং মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
গণমিছিলসহ ১১ দলীয় জোটের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
গণমিছিলসহ ১১ দলীয় জোটের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
গণমিছিলসহ সারা দেশে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় জোট। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কথা জানান। তিনি জানান, আগামী ১৮ এপ্রিল গণমিছিল করবে জামায়াত ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট। ২৫ এপ্রিল ঢাকার বাইরে সব বিভাগীয় জেলায় গণমিছিল করবে তারা। এ ছাড়া ২ মে সব জেলায় গণমিছিল করা হবে। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রব্যবস্থার কোনো গুণগত পরিবর্তন হয়নি। এখন প্রয়োজন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন। জুলাই সনদকে আইনে রুপান্তর করে তা সংবিধানে যুক্ত করতে হবে।’ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে দেশের মানুষ যে স্বপ্ন দেখেছিল সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দেশের মানুষের গণরায় বর্তমান সরকার উপেক্ষা করে দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে৷ জনগণের পক্ষে হওয়া আন্দোলন দমনে সরকার যে হুমকি দিচ্ছে তা ফ্যাসিবাদী ও অসাংবিধানিক আচরণ। আন্দোলন দমনে পতিত সরকারের মতো আচরণ করলে পরিণতিও তাদের মতোই হবে৷’ এসময় তেল সংকট, হাম সংক্রমণ পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলেও দাবি করেন জামায়াতের সেক্রেটারি।
কুষ্টিয়ায় ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে দুজন নিহত, মারা গেছে তিনটি ঘোড়াও
কুষ্টিয়ায় ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে দুজন নিহত, মারা গেছে তিনটি ঘোড়াও
কুষ্টিয়ায় ট্রাক-পিকআপভ্যানের সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। এতে পিকআপের চালকসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টায় কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের বিত্তিপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন— নড়াইল জেলার সিফায়েত (৩৫) ও বিকাশ (৪৫)। দুর্ঘটনায় পিকআপে থাকা তিনটি ঘোড়াও মারা গেছে। কুষ্টিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওসি জানান, আহতরা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ জানায়, সকালে ঘোড়া বহনকারী একটি পিকআপভ্যান নড়াইলের দিকে যাওয়ার পথে বিত্তিপাড়া এলাকায় পৌঁছালে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে সিফায়েত এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাশের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় পিকআপে থাকা তিনটি ঘোড়াও মারা যায়। এ ঘটনায় দুর্ঘটনায় আহত পিকআপের চালক নাজমুল (৩৭) এবং দুই আরোহী তামিম (১৪) ও জিয়াকে (৪৫) কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  
রাজশাহীতে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
রাজশাহীতে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আরও ৯১ শিশু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আরও ৯১ শিশু
নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার, হত্যায় জড়িত সন্দেহে দুই ভাইকে পিটিয়ে হত্যা
নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার, হত্যায় জড়িত সন্দেহে দুই ভাইকে পিটিয়ে হত্যা
রাঙ্গামাটিতে ইউপিডিএফ কর্মীকে গুলি করে হত্যা
রাঙ্গামাটিতে ইউপিডিএফ কর্মীকে গুলি করে হত্যা
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু
ইরানের সঙ্গে চুক্তির জন্য পাকিস্তান যেতে পারেন ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে চুক্তির জন্য পাকিস্তান যেতে পারেন ট্রাম্প
সু চির সাজার মেয়াদ কমালো মিয়ানমার
সু চির সাজার মেয়াদ কমালো মিয়ানমার
মিয়ানমারে হাজারো বন্দির জন্য সাধারণ ক্ষমা ও সাজা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে জান্তা সরকার। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআরটিভি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে। চলতি মাসে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের এটি অন্যতম প্রথম সরকারি পদক্ষেপ। তার অনুমোদনে মোট ৪ হাজার ৩৩৫ জন বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হয়েছে। জান্তা সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর আটক সাবেক রাষ্ট্রপতি উইন মিন্টকে শর্তসাপেক্ষে ক্ষমা করা হয়েছে। তার অবশিষ্ট সাজা মওকুফ করা হলেও কিছু শর্ত বহাল থাকবে। ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করা হবে। পাশাপাশি যাবজ্জীবন দণ্ড ৪০ বছরে নামানো এবং অন্যান্য বন্দিদের সাজা হ্রাসের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। সাধারণ ক্ষমার আওতায় ১৭৯ জন বিদেশি বন্দিকে মুক্তি দিয়ে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। অন্যদিকে, কারাবন্দি নেত্রী অং সান সু চির সাজাও কমানো হয়েছে। তার আইনজীবীর বরাতে রয়টার্স জানায়, ২৭ বছরের দণ্ড থেকে প্রায় সাড়ে চার বছর কমানো হয়েছে। তবে তাকে গৃহবন্দিত্বে রাখা হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এর আগে, ২০২১ সালে মিন অং হ্লাইং এক সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। এমতাবস্থায় রাজনৈতিক অস্থিরতায় পড়ে দেশটি। সেই সময় থেকে মিন অং হ্লাইং জান্তা সরকারকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। গত ৩ এপ্রিল দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। তবে সেই ওই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না বলে মন্তব্য করেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
ইরান চুক্তিতে না পোঁছালে ফের যুদ্ধ, হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
ইরান চুক্তিতে না পোঁছালে ফের যুদ্ধ, হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
মার্কিন সিনেটে প্রস্তাব নাকচ, ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা কমানো গেল না
মার্কিন সিনেটে প্রস্তাব নাকচ, ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা কমানো গেল না
স্কালোনি কি হতে যাচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ?
স্কালোনি কি হতে যাচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ?
চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায়ের পর নতুন করে দল গঠনের পথে হাঁটছে রিয়াল মাদ্রিদ। আর সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কোচিং পজিশনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান কোচ আলভারো আরবেলোয়ার ওপর আস্থা হারিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। দলকে আবারও সাফল্যের পথে ফেরাতে অভিজ্ঞ ও বিজয়ী মানসিকতার কোচ খুঁজছে তারা। এই কারণেই স্কালোনিকে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করা হচ্ছে। স্কালোনির অধীনে লিওনেল মেসিদের নিয়ে আর্জেন্টিনা জিতেছে ২০২২ বিশ্বকাপ, পাশাপাশি কোপা আমেরিকার শিরোপাও। তার কৌশল, নেতৃত্ব ও বড় তারকাদের সামলানোর দক্ষতা ইতোমধ্যেই বিশ্ব ফুটবলে প্রশংসিত। তবে স্কালোনিকে এখনই পাওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে তার চুক্তি রয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। তাই রিয়াল মাদ্রিদ তাকে দলে নিতে হলে বিশ্বকাপ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
আজ প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড
আজ প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড
এক মাস বিরতির পর মাঠে নামছে বাংলাদেশ। মিরপুরে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায় শুরু হবে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাই করতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠের এই সিরিজ বাংলাদেশ দলের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই সিরিজকে সামনে রেখে লম্বা সময় ধরে প্রস্তুতি নিয়েছে টাইগাররা। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) থাকা ৫ ক্রিকেটার বাদে সবাই প্রায় ২০ দিন ধরে ফিটনেস, ফিল্ডিং, স্কিল— সবকিছু নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও সিরিজ জেতার ব্যাপারে আশাবাদী টাইগার অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। এছাড়া, সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) যে পরিবর্তন এসেছে, তা তাদের খেলায় প্রভাব ফেলবে না বলেও মনে করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
শুক্রবার বন্ধ থাকে রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট
শুক্রবার বন্ধ থাকে রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট
নানা প্রয়োজনে মানুষ দোকানপাট ও মার্কেটে যায়। কিন্তু তীব্র যানজট পেরিয়ে গিয়ে যদি দেখতে পায় সব দোকানপাট বন্ধ, তাহলে বিফলে যাবে সব। তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক শুক্রবার রাজধানীর কোন কোন এলাকায় দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে যেসব শপিং সেন্টার আজিমপুর সুপার মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধূপখোলা মাঠ বাজার, চক বাজার, বাবু বাজার, নয়াবাজার, কাপ্তানবাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ইসলামপুর কাপড়ের দোকান, ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোলসেল মার্কেট, শরিফ ম্যানশন, ফুলবাড়িয়া মার্কেট, সান্দ্রা সুপার মার্কেট। যেসব দর্শনীয় স্থান বন্ধ সামরিক জাদুঘর : এটি বিজয় সরণিতে অবস্থিত। প্রতিদিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধ। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর, আগারগাঁও : বৃহস্পতি ও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির জন্য বন্ধ থাকে। শনি থেকে বুধবার প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৫ টাকা। এ ছাড়া শনি ও রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১০ টাকার টিকিটের বিনিময়ে টেলিস্কোপে আকাশ পর্যবেক্ষণ করা যায়। শিশু একাডেমি জাদুঘর : শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
ইরান বিশ্বকাপে খেলবে, আশাবাদী ফিফা সভাপতি
ইরান বিশ্বকাপে খেলবে, আশাবাদী ফিফা সভাপতি
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি বিবৃতিতে পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। ‘শত্রু’ দেশে দল পাঠাবে না জানিয়ে ভেন্যু বদলানোর দাবি জানায় ইরান। যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের বিশ্বকাপ খেলার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করছেন।  গতকাল বুধবার সম্প্রচারক সংস্থা সিএনবিসি আয়োজিত অর্থনৈতিক সম্মেলনেও একই কথা বলেছেন ইনফান্তিনো। তিনি মনে করেন, টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। ইনফান্তিনো বলেছেন, খেলাধুলা রাজনীতির বাইরে থাকা উচিত এবং এটি মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার একটি মাধ্যম। ২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ইরানের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বিধায় তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। এর আগে সংঘাতের কারণে ইরান তাদের ম্যাচ অন্য দেশে সরানোর প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু তা ফিফা প্রত্যাখ্যান করে। পরে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ফলে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে।
তামান্নার ক্ষতিপূরণের আবেদন খারিজ
তামান্নার ক্ষতিপূরণের আবেদন খারিজ
বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় রণবীর কাপুর
বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় রণবীর কাপুর

ফের একসঙ্গে জুটি বাঁধলেন আহান-অনীত

শ্বশুড়ের সঙ্গে পর্দায় রণবীর সিং, যে বিজ্ঞাপন ঘিরে আলোচনা
শ্বশুড়ের সঙ্গে পর্দায় রণবীর সিং, যে বিজ্ঞাপন ঘিরে আলোচনা
বাবা হারালেন অভিনেত্রী বন্যা মির্জা
বাবা হারালেন অভিনেত্রী বন্যা মির্জা
এক মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণের জামিন
এক মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণের জামিন
একটি মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে জামিন দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাখাওয়াত হোসেন এ আদেশ দেন। তবে চিন্ময়ের বিরুদ্ধে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলাসহ আরো ছয়টি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মেখল এলাকায় জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধরের অভিযোগে মামলাটি করেন সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। এই মামলায় ৭ এপ্রিল চিন্ময়কে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর রহমান বলেন, কারাগারে আটক চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হলে শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালে দায়ের করা এ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির আওতায় করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে পিবিআই প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রসঙ্গত, জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ইসকনের সাবেক নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৬ নভেম্বর তাকে চট্টগ্রাম আদালতে তোলা হয়। ওই দিন তার জামিনকে কেন্দ্র করে তার অনুসারীরা আদালত এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। একপর্যায়ে আদালতের বাইরে চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় তার বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। গত বছরের ১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি) মাহফুজুর রহমান মোট ৩৯ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে প্রধান আসামি করা হয় চিন্ময় দাসকে। পরে ২৫ আগস্ট চিন্ময়সহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে বাদীর উপস্থিতিতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরো পাঁচটি মামলা করা হয়।
বিএনপির সমালোচনা করে ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ
বিএনপির সমালোচনা করে ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শোভন বিএনপির দলীয় অবস্থানের সমালোচনা করে পদত্যাগ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, জুলাইয়ের অঙ্গীকারের বিরোধিতা এবং সংস্কার ইস্যুতে দলটির প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা তাকে এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, রাষ্ট্র আজ এক গভীর সংকটের ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে। সাম্যবাদী বিপ্লবের মহান আদর্শকে ধারণ করে ছাত্র–জনতা–সিপাহির ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে ২১ দিনের পাল্টাপাল্টি প্রতিরোধ যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত ৫ আগস্ট, তার চেতনা আজ উপেক্ষিত, তার অঙ্গীকার পদদলিত। ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের অন্ধ প্রতিযোগিতা এবং বিশ্বাসঘাতকতার কালো ছায়ায় সহস্র শহীদের আত্মত্যাগ আজও ন্যায্য মর্যাদা পায়নি, এ জাতির জন্য এক গভীর লজ্জা ও বেদনার ইতিহাস। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সেই দুর্দিনে আমরা মাথা নত করিনি। মহান আল্লাহর ওপর অটল ভরসা ও অদম্য সাহসে আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম বলেই জাতি রক্ষা পেয়েছিল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে। নতুবা প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ পরিণত হতো এক রক্তাক্ত বিপর্যয়ের প্রান্তরে। অথচ আজও একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেছে, এ এক নির্মম বাস্তবতা। তিনি আরো লেখেন, চলমান জাতীয় দুর্যোগের প্রেক্ষাপট মোকাবিলায় সম্পূর্ণভাবে কপটতার আশ্রয় নেওয়া দুর্বল সরকার ও দলের (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি। আমার এক দশকের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশায় ছিল না; বরং তা ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও গণমানুষের আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই অতঃপর; নিপীড়িত দেশমাতা মরহুমা বেগম জিয়ার প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু বর্তমানে দলটির নীতি ও কার্যক্রমের সঙ্গে একজন আদর্শনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে আমার পথচলা আর সম্ভব নয়। ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, স্মরণ রাখা আবশ্যক—রাষ্ট্রই সর্বোচ্চ, দল তার একটি উপাদান মাত্র। রাষ্ট্রের স্বার্থ, ন্যায় ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস চলতে পারে না, হবেও না। অতএব, জাতির স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায়ের প্রশ্নে যদি পুনরায় সংগ্রাম অনিবার্য হয়, তবে দেশমাতৃকার সম্মান রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে আমরা প্রস্তুত থাকব। অন্যায়ের সামনে নতজানু নয়, প্রয়োজনে শাহাদাতই হবে আমাদের চূড়ান্ত অঙ্গীকার। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।