গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয়ে যেসব পরিবর্তন আসবে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিপুল ব্যবধানে জয়ী হওয়ায় সংবিধান সংশ্লিষ্ট ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুক্রবার নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, জনগণ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট রায় দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, মোট ভোটার ছিল ১২ কোটির বেশি এবং ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি।
গণভোটের ফল অনুযায়ী শাসনব্যবস্থায় একাধিক কাঠামোগত পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা কিছুটা সীমিত করে রাষ্ট্রপতির ভূমিকায় ভারসাম্য আনার প্রস্তাব কার্যকর হবে। পাশাপাশি সংসদকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট কাঠামোয় রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে নিম্নকক্ষের পাশাপাশি একটি উচ্চকক্ষ থাকবে। উচ্চকক্ষে বিশিষ্ট নাগরিকদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে আইন প্রণয়নে বাড়তি পর্যালোচনার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে সংশোধনের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে মতপ্রকাশ ও ভোটদানের ক্ষেত্রে অধিক স্বাধীনতা দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে সার্চ কমিটি বা সংসদীয় পদ্ধতি জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।
মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় বাকস্বাধীনতা, ইন্টারনেট ব্যবহার ও সভা-সমাবেশের অধিকারের বিষয়ে সাংবিধানিক সুরক্ষা আরও জোরদার করার প্রস্তাবও রয়েছে।
দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের উদাহরণ হিসেবে ভারতে লোকসভা ও রাজ্যসভা এবং পাকিস্তানে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ও সিনেটের কাঠামো অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে আলোচনায় এসেছে, যেখানে আইন পাসে দুই কক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হয় এবং ফেডারেল ভারসাম্য রক্ষায় উচ্চকক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের রাষ্ট্র সংস্কার উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত ৮৪টি সুপারিশের মধ্যে সংবিধান সংশ্লিষ্ট ৪৮টি বিষয়ই এই গণভোটে অন্তর্ভুক্ত ছিল। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই রায়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক কাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ভিত্তি স্থাপিত হলো।