যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ জিসিডিজি'র
গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্ন্যান্স (জিসিডিজি) জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি, জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট (GSOMIA) এবং অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট (ACSA) স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে অথবা এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
এক বিবৃতিতে জিসিডিজি বলেছে, জনগণের সঙ্গে পরামর্শ, সংসদীয় পর্যালোচনা কিংবা জাতীয় ঐকমত্য ছাড়াই এ ধরনের চুক্তি চূড়ান্ত করা হলে তা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতি “সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়” নীতির বিপজ্জনক বিচ্যুতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
সংগঠনটির দাবি, GSOMIA ও ACSA কেবল কারিগরি বা প্রশাসনিক চুক্তি নয়; বরং এগুলোর সুদূরপ্রসারী ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব রয়েছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে একটি বৈশ্বিক শক্তির সামরিক ও কৌশলগত বলয়ের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে, যা দেশের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা দুর্বল করতে পারে এবং প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ে সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ACSA বিদেশি সামরিক অভিযানে লজিস্টিক সহায়তা ও প্রবেশাধিকারের সুযোগ বাড়াতে পারে। অন্যদিকে GSOMIA গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সামরিক সমন্বয় আরও গভীর করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
জিসিডিজি আরও বলেছে, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে এসেছে। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার এই নীতির বাইরে গিয়ে বিদেশি চাপের মুখে সামরিক চুক্তিতে জড়ানো দক্ষিণ এশিয়া ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে বাংলাদেশকে জড়িয়ে ফেলতে পারে।
সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, এসব চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য ও কূটনৈতিক আলোচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে কৌশলগত ও সামরিক ছাড় দেওয়া হলে তা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী ও অগ্রহণযোগ্য হবে বলেও মন্তব্য করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যখন দেশের জনগণ গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা, অর্থনৈতিক স্বস্তি এবং অবাধ রাজনৈতিক অংশগ্রহণ দাবি করছে, তখন সরকারের নৈতিক ও রাজনৈতিক বৈধতা নেই গোপনে এমন দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা চুক্তি করার, যা দেশের কৌশলগত অবস্থানকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করতে পারে।
এছাড়া, এসব পদক্ষেপ বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের রাজনৈতিক দুর্বলতা ও ক্রমবর্ধমান অজনপ্রিয়তার প্রতিফলন বলেও দাবি করেছে জিসিডিজি। সংগঠনটির ভাষ্য, বিদেশি সমর্থন ও রাজনৈতিক বৈধতা অর্জনের লক্ষ্যে সরকার বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপস করতে প্রস্তুত বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
জিসিডিজি সরকারের প্রতি চার দফা আহ্বান জানিয়েছে। সেগুলো হলো:
১. GSOMIA ও ACSA সংক্রান্ত যেকোনো আলোচনা, অগ্রগতি ও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা;
২. সংসদীয় বিতর্ক ও জনসম্মুখে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করে কোনো সামরিক বা কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর না করা;
৩. বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি রক্ষা করা;
৪. বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিদেশি সামরিক প্রতিযোগিতার প্ল্যাটফর্মে পরিণত হতে না দেওয়া।
জিসিডিজি আরও বলেছে, জনগণের সার্বভৌমত্ব, গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা এবং বিদেশি প্রভাবমুক্ত স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি রক্ষার সংগ্রামে তারা জনগণের পাশে থাকবে।