অবৈধ বা ক্লোন মোবাইল ফোন বন্ধ হবে কি? যা জানা গেল
গতকাল ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের মোবাইল ফোন বাজারে অবৈধ ও আনঅফিশিয়াল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম শুরু করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সব মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত হবে, যা চোরাই ও অবৈধ ফোন শনাক্তকরণকে সহজ করবে।
এনইআইআর চালু হওয়ার পরও কিছু বিষয়ে মোবাইল ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে অনেক মোবাইল ফোনের রেজিস্ট্রেশন দেখাচ্ছে, যা ব্যবহারকারীদের উদ্বিগ্ন করেছে।
এই বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব পরিষ্কার করেছেন, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে কারো অবৈধ ফোন বন্ধ হবে না। তিনি জানান, “একটি এনআইডির বিপরীতে অনেকগুলো ফোন দেখালেও এটি ঠিক হবে এবং এর ওপর কাজ চলছে।”
ফয়েজ তৈয়্যব শুক্রবার দুপুরে নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, “এনইআইআর চালুর পরও আগামী ৯০ দিন কারো অবৈধ বা ক্লোন করা হ্যান্ডসেট বন্ধ হবে না। তাই বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, কেউ আতঙ্কিত হবেন না।”
তিনি এনআইডিতে অনেক ফোন সচল দেখানোর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমরা অপারেটরদের কাছ থেকে প্রায় তিন বিলিয়নের বেশি ডেটা পেয়েছি। অপারেটররা হিস্টোরিক ডেটাসহ সবকিছুই সিস্টেমে তুলেছে। কিন্তু মাইগ্রেশনের তারিখ বর্তমানে দেখানো হয়েছে, তাই অনেকের এনআইডিতে সচল সিম বা হ্যান্ডসেটের সংখ্যা বেশি দেখাচ্ছে। বিটিআরসি এবং মোবাইল অপারেটররা যৌথভাবে কাজ করছে। ধীরে ধীরে হিস্টোরিক ডেটা আর্কাইভ করে শুধু বর্তমানে সচল হ্যান্ডসেট দেখানো হবে। এজন্য কিছুটা সময় লাগবে।”
এনইআইআর সংক্রান্ত ভুল বা সমস্যা ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফয়েজ তৈয়্যব বলেন, “শুরুর দিকে টেকনিক্যাল প্লাটফর্মে কিছু জটিল ইস্যু দেখা দিবে, আমরা এসব সমাধান করব।”
তিনি আরও জানান, “সিস্টেমটি নতুনভাবে ইনস্টল করা হয়নি। ২০২১ সালে প্রথম চালুর চেষ্টা হয়েছিল। কিছু ফাংশনাল ফিচার বাড়িয়ে এখন সচল করা হয়েছে। আগে একজন ব্যক্তির একটি এনআইডির বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০টি এবং পরে ১৫টি পর্যন্ত সিম ব্যবহারের অনুমতি ছিল, যা বর্তমানে ১০-এ নামানো হচ্ছে। এজন্য এনআইডির বিপরীতে হিস্টোরিক ডেটায় অনেক হ্যান্ডসেট দেখানো স্বাভাবিক।”
ফয়েজ তৈয়্যব বলেন, এই তথ্যের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা জানতে পারবেন, তাদের এনআইডির বিপরীতে কত সিম ব্যবহার হয়েছে এবং সিমের বিপরীতে কত ডিভাইস ব্যবহার হয়েছে। এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত আর্থিক অপরাধের বিষয়ে নাগরিকরা সচেতন হতে পারবেন।